নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: বুধবার ভাগ্যপরীক্ষা রাজ্যের ১৪২টি বিধানসভা কেন্দ্রের। আর সেই হাইভোল্টেজ ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে ময়দানে নেমেছে পুলিশ ও প্রশাসন। কমিশনের কড়া নির্দেশে গত ৩৬ ঘণ্টায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে ১৫৪৩ জন ‘ট্রাবল মেকার’ বা সম্ভাব্য গোলমালকারীকে। ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন খোদ শাসকদলের কাউন্সিলরও।
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছিল, ভোটের দিন কোনওভাবেই অশান্তি বরদাস্ত করা হবে না। সেই নির্দেশ পাওয়া মাত্রই গত রবিবার থেকে ব্লক স্তরে অভিযানে নামে পুলিশ বাহিনী। লালবাজার ও নবান্ন সূত্রে খবর, রবিবার দুপুর থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত যে ঝোড়ো অভিযান চলেছে, তাতে কেবল পূর্ব বর্ধমান জেলা থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছে ৪৭৯ জনকে। তালিকায় এর পরেই রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, সেখান থেকে ২৪৬ জনকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
গ্রেফতারির তালিকায় সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য নাম নাড়ুগোপাল ভকত। তিনি বর্ধমান পুরসভার ২২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর। অভিযোগ, রবিবার রাতে এক বিজেপি নেতার বাড়িতে হামলা ও এলাকায় দাপট দেখানোর অভিযোগে পুলিশ তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায়। ভোটের মুখে দলের কাউন্সিলরের গ্রেফতারিতে অস্বস্তিতে শাসক শিবির। যদিও স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কর্মীবল কমাতে এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে খোদ কলকাতা পুলিশের এক কর্মীকেও সাসপেন্ড করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, সামাজিক মাধ্যমে বিতর্কিত পোস্ট করে রাজনৈতিক পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল ওই পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়েছে এবং আপাতত তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। লালবাজারের এক পদস্থ কর্তা জানান, ‘‘আইন সবার জন্য সমান। নিরপেক্ষতা বজায় রাখতেই এই কঠোর পদক্ষেপ।’’
এক নজরে পুলিশের ‘অ্যাকশন’:
মোট গ্রেফতার: ১৫৪৩ জন।
পূর্ব বর্ধমান: ৪৭৯ জন (সর্বোচ্চ)।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ২৪৬ জন।
কলকাতা পুলিশ: ১ জন পুলিশকর্মী বরখাস্ত।
আগামী বুধবার ২৯ এপ্রিল রাজ্যের ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ। শিল্পাঞ্চল থেকে গ্রামীণ বাংলা— শেষ দফায় অশান্তির মেঘ কাটাতে যে পুলিশ বিন্দুমাত্র ছাড় দিতে নারাজ, তা এই ব্যাপক ধরপাকড়েই স্পষ্ট। এখন দেখার, এই প্রশাসনিক তৎপরতা বুধবারের ভোটবাক্সে কতটা শান্তি বজায় রাখতে পারে।