সিইও দপ্তরে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন: আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পরিমার্জন (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন উত্তপ্ত পরিস্থিতির আশঙ্কায় বড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তরে এবার সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার দায়িত্ব সামলাবে কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (CAPF)। মূলত গত নভেম্বর মাসে সিইও দপ্তর ঘেরাও এবং আধিকারিকদের নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে এই আবেদন জানানো হয়েছে।
অশান্তির স্মৃতি ও কমিশনের উদ্বেগ প্রকাশ করেনির্বাচন কমিশনের সচিব সুজিত কুমার মিশ্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যুগ্মসচিব অনিল সুব্রহ্মণ্যমকে লেখা চিঠিতে গত ২৪ ও ২৫ নভেম্বরের ঘটনার উল্লেখ করেছেন। জানা গিয়েছে, ওই দুদিন বুথ লেভেল অফিসার (BLO) এবং কয়েকটি রাজনৈতিক দলের কর্মীরা এনএস রোডের সিইও দপ্তর ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। এর ফলে দীর্ঘ সময় দপ্তরের আধিকারিক ও কর্মীরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। কমিশনের মতে, বর্তমান SIR প্রক্রিয়া এবং আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের সংবেদনশীলতা বিচার করলে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
দপ্তরের নিরাপত্তাহীনতা ও স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত
চিঠিতে বর্তমান দপ্তরের পরিকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে:
নিরাপত্তার অভাব: বর্তমানে দপ্তরটি নেতাজি সুভাষ রোডের একটি পুরনো ভবনের দুটি তলায় ভাড়া নিয়ে চলছে, যেখানে নিরাপত্তা বজায় রাখা কঠিন।
নতুন ঠিকানা: নিরাপত্তার স্বার্থে এবং কাজের সুবিধার জন্য বিবাদী বাগ এলাকার স্ট্র্যান্ড রোডের ‘শিপিং হাউস’ ভবনে দ্রুত দপ্তরটি স্থানান্তরিত করার কাজ শুরু হয়েছে।
যৌথ নিরাপত্তা: স্থানান্তর প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েকদিন সময় লাগবে। তাই বর্তমান এবং নতুন—উভয় ঠিকানাতেই ২৪ ঘণ্টা কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কমিশনের এক শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, প্রথমে মনে করা হয়েছিল রাজ্য পুলিশই পরিস্থিতি সামলে নেবে। কিন্তু নভেম্বরের বিক্ষোভের সময় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে কমিশন। অভিযোগ উঠেছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য পুলিশ যথেষ্ট সক্রিয় ছিল না। এই কারণেই নিরাপত্তার যাবতীয় ভার কেন্দ্রীয় বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে এমনিতেই রাজ্যে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। তার ওপর এসআইআর প্রক্রিয়ার মাঝে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের এই সিদ্ধান্ত শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
