নিজস্ব সংবাদদাতা, পাণ্ডবেশ্বর: বৈশাখের আকাশ থেকে যেন আগুন ঝরছে। আবহাওয়া দপ্তরের ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ বলছে, প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে বেরোনো কার্যত দায়। কিন্তু সেই চড়া রোদকেও তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন পাণ্ডবেশ্বরের ‘ঘরের ছেলে’ নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। বুধবার সকাল থেকেই জামগড়া, প্রতাপপুর আর নাচন এলাকায় কার্যত ‘একাই মাঠ কাঁপালেন’ তৃণমূলের এই দাপুটে নেতা।
ঘরের মাঠে ‘একাই ১০০’
পাণ্ডবেশ্বর যে তাঁর নিজের হাতের তালুর মতো চেনা, তা এদিন ফের প্রমাণ করলেন নরেন্দ্রনাথ। বিরোধীরা যখন এসি ঘরের স্বস্তি বা গাছের ছায়া খুঁজছেন, তখন তৃণমূল প্রার্থী ঘামঝরানো রোদ মাথায় নিয়েই চষে ফেললেন মাইলের পর মাইল। জামগড়া থেকে প্রতাপপুর—যে পথ দিয়েই তাঁর প্রচার মিছিল এগোলো, কার্যত থমকে গেল এলাকার জনজীবন। কেবল স্লোগান নয়, জনজোয়ারে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ল রাস্তা।
পুষ্পবৃষ্টি ও জয়ধ্বনি
এদিন নাচন এলাকায় প্রার্থী পৌঁছনো মাত্রই শুরু হয় পুষ্পবৃষ্টি। স্থানীয় তৃণমূল কর্মী ও সাধারণ মানুষের উন্মাদনা দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে মাথার ওপর সূর্য ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস উত্তাপ ঢালছে। কোথাও মহিলারা শঙ্খধ্বনি দিয়ে তাঁকে বরণ করে নিলেন, কোথাও আবার বয়স্করা প্রার্থীর মাথায় হাত রেখে দিলেন আশীর্বাদ। ছোটদের সঙ্গেও হাসিমুখে কথা বলতে দেখা গেল নরেন্দ্রনাথকে।
চাপে বিরোধীরা?
রাজনৈতিক মহলের মতে, পাণ্ডবেশ্বরে নরেন্দ্রনাথের এই ব্যক্তিগত ক্যারিশমা আর জনসংযোগই তাঁর বড় অস্ত্র। এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি মেজাজি ভঙ্গিতেই বুঝিয়ে দিলেন, মাঠ ছাড়ার পাত্র তিনি নন। নিজের ‘হোমগ্রাউন্ডে’ তিনি যে কতটা আত্মবিশ্বাসী, এদিনের ভিড় তার প্রমাণ।
তীব্র দাবদাহ না কি তৃণমূল প্রার্থীর প্রচারের তেজ—পাণ্ডবেশ্বরের পারদ আজ ঠিক কার জন্য চড়ল, তা নিয়ে বিকেলের চায়ের দোকানে চলল জোর চর্চা। তবে একটা বিষয় পরিষ্কার, ভোটের ময়দানে রোদের তাপের চেয়েও বিরোধীদের বেশি ঘামাবে নরেন্দ্রনাথের এই ‘একাই ১০০’ দাপট।