নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ভরদুপুরে নয়, বরং নিশুত রাতে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল শিল্পশহরের কোকওভেন থানা এলাকা। পুলিশি অতিসক্রিয়তা আর বিজেপি কর্মীদের ‘অন্যায়’ গ্রেফতারির অভিযোগে বুধবার মধ্যরাতে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ল থানা চত্বর। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ চন্দ্র ঘোড়ুইয়ের নেতৃত্বে চলল তুমুল বিক্ষোভ। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষমেশ নামাতে হল কেন্দ্রীয় বাহিনী। উত্তেজনার পারদ চড়ল পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন যুব মোর্চার মেজাজি আন্দোলনেও।
সংঘাতের সূত্রপাত
ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে গত রবিবার রাতের এক সংঘর্ষ। স্থানীয় সূত্রের খবর, বাঁকুড়া মোড়ের কাছে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের রূপ নেয়। দুই পক্ষের দু’জন গুরুতর জখম হয়ে বর্তমানে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ মঙ্গলবার রাতে তিন বিজেপি কর্মীকে গ্রেফতার করে। আর এই ‘একতরফা’ গ্রেফতারির খবর চাউর হতেই বুধবার রাত থেকে ফুটতে শুরু করে বিজেপি শিবির।
থানার গেটে ধস্তাধস্তি
রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কোকওভেন থানার সামনে জমায়েত হতে থাকেন শয়ে শয়ে বিজেপি কর্মী-সমর্থক। তাঁদের দাবি— ধৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি এবং প্রকৃত অপরাধী তৃণমূল কর্মীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে উত্তেজিত কর্মীরা থানার মূল ফটক ঠেলে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে শুরু হয় প্রবল ধস্তাধস্তি।
বিজেপি যুব নেতা পারিজাত গঙ্গোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে একদল কর্মী ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যেতে চাইলে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। শুরু হয় মুহুর্মুহু স্লোগান। মাঝরাস্তায় বসে পড়ে চলে অবস্থান বিক্ষোভ।
আসরে কেন্দ্রীয় বাহিনী
উত্তেজনা হাতের বাইরে চলে যাচ্ছে দেখে তড়িঘড়ি কোকওভেন থানার ওসি বিজয় দলপতি আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলতে আসেন। কিন্তু তাঁকে ঘিরে ধরেও চলে বিক্ষোভ। শেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং থানার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আসরে নামানো হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের।
বিজেপি প্রার্থী লক্ষ্মণ চন্দ্র ঘোড়ুইয়ের কথায়,”পুলিশ শাসকদলের দলদাসে পরিণত হয়েছে। আমাদের কর্মীদের মিথ্যে অভিযোগে ধরা হয়েছে, অথচ মূল অভিযুক্তরা বুক ফুলিয়ে ঘুরছে। যতক্ষণ না সুবিচার মিলছে, এই লড়াই চলবে।”
প্রায় ঘণ্টা দুয়েকের টানটান উত্তেজনার পর পুলিশি আশ্বাসে বিক্ষোভ কিছুটা থিতু হলেও এলাকা এখনও থমথমে। মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। নিস্তব্ধ শিল্পশহরের রাজপথে বুটের শব্দ আর রাজনৈতিক স্লোগানের রেশ যেন জানান দিচ্ছে— ভোট-যুদ্ধের আঁচ এখন থেকেই লাগতে শুরু করেছে দুর্গাপুরের অলিগলিতে।