নিজস্ব প্রতিবেদন: আরজি কর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনার তদন্তে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রথম থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার সেই ক্ষোভের আঁচ আছড়ে পড়ল খোদ লালবাজার এবং পুলিশ সদর দফতরে। এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আরজি কর কাণ্ডে তদন্তে গাফিলতির অভিযোগে এডিজি আইবি (ADG IB) বিনীত গোয়েল, আইপিএস ইন্দিরা মুখোপাধ্যায় এবং আইপিএস অভিষেক গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু তদন্তে গাফিলতি নয়, খোদ নির্যাতিতার পরিবারকে টাকা দিয়ে প্রভাবিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের একাংশের বিরুদ্ধে। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “দুই পুলিশ অফিসার নির্যাতিতার পরিবারকে টাকা দিতে চেয়েছিলেন। ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাঁদের এই ভূমিকা ক্ষমার অযোগ্য। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের ফোন কল রেকর্ড এবং হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট খতিয়ে দেখা হবে।”

সাসপেন্ড করার পাশাপাশি এই তিন উচ্চপদস্থ আধিকারিকের বিরুদ্ধে কড়া বিভাগীয় তদন্তের (Departmental Inquiry) নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, আরজি করের ঘটনার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টার তদন্তে পুলিশের যে সমস্ত গাফিলতি ছিল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট তলব করা হয়েছে। জনমানসে পুলিশের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার এবং সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতেই এই কঠোর পদক্ষেপ বলে মনে করছে নবান্ন।মুখ্যমন্ত্রীর কড়া হুঁশিয়ারি,“তদন্তের গাফিলতি কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। সত্য গোপন করতে পুলিশ আধিকারিকদের ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তার শেষ দেখে ছাড়বে সরকার।”
আরজি কর কাণ্ড ঘিরে রাজ্য রাজনীতি যখন উত্তাল, তখন এই হাই-প্রোফাইল সাসপেনশনের সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপের পর রাজ্য পুলিশের প্রশাসনিক কাঠামোয় আরও বড়সড় রদবদল ঘটা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *