নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ফের শ্রীঘরে বুদবুদ গ্রাম পঞ্চায়েতের বিতর্কিত তৃণমূল নেতা তথা উপপ্রধান রুদ্রপ্রসাদ কুণ্ডু ওরফে মনা। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রাতে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করার পর, বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালত তাঁর ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে। রাজনৈতিক ডামাডোলের আবহে এই গ্রেফতারিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই শিল্পাঞ্চলে শুরু হয়েছে জোরদার চর্চা। বুদবুদ থানা সূত্রের খবর, বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার রাতে মনার ডেরায় হানা দেয় পুলিশ। সেখান থেকেই তাঁকে পাকড়াও করা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলা হলে বিচারক দীর্ঘ সওয়াল-জবাব শেষে ১৪ দিন জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। দীর্ঘ সময় পর ফের মনার গারদ-বাসে এলাকায় যেমন চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, তেমনই পুলিশের অতি-সক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে ঘাসফুল শিবিরের একাংশ। তৃণমূল আমলে রুদ্রপ্রসাদ ওরফে মনা কুণ্ডু বরাবরই ছিলেন দাপুটে নেতা। তবে বিতর্ক তাঁর পিছু ছাড়েনি। অতীতে একাধিকবার বিভিন্ন সন্ত্রাসমূলক এবং অসামাজিক কর্মকাণ্ডে তাঁর নাম জড়িয়েছে। মনার কাজকর্মে বারবার অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বকে। এমনকি অনেক সময় দলের শীর্ষ স্তর থেকেও তাঁকে নিয়ে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই পুরনো মামলা ও নতুন অভিযোগের খাঁড়া ঝুলছিল তাঁর ওপর। শেষমেশ সেই ফাসেই আটকালেন তিনি।যদিও নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করেছেন ধৃত এই নেতা। আদালত চত্বরে দাঁড়িয়ে মনা কুণ্ডুর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া, “আমি কোনো অপরাধ করিনি। আমাকে রাজনৈতিক চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। সত্য ঠিকই সামনে আসবে।”মনার গ্রেফতারি নিয়ে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন চাপানউতোর। বিরোধীদের দাবি, আইন আইনের পথে চলছে। অন্যদিকে, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, গোটা বিষয়টির ওপর নজর রাখা হচ্ছে। আপাতত আদালতের নির্দেশ মেনে দুর্গাপুর জেলেই ঠাঁই হচ্ছে বুদবুদের এই প্রাক্তন ‘বেতাজ বাদশা’র। তাঁর এই জেল যাত্রা আগামী দিনে স্থানীয় রাজনীতিতে কী প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার। Share Post Whatsapp Share Post navigation হেলমেটহীন বাইক থেকে অটোয় অতিরিক্ত যাত্রী, দুর্গাপুরে ট্রাফিক শাসনে কড়া পুলিশ তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার, দলের বিরুদ্ধেই ‘চক্রান্তের’ তোপ দুর্গাপুরের প্রাক্তন কাউন্সিলরের