নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় (ডিএসপি) বিপুল সংখ্যক ঠিকা শ্রমিককে কাজ থেকে বসিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে— এই বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সোমবার সকালে উত্তপ্ত হয়ে উঠল কারখানা চত্বর। এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং একাধিক দাবিতে এদিন কারখানার প্রধান গেটের সামনে তুমুল বিক্ষোভে সামিল হন ভারতীয় মজদুর সংঘ (বিএমএস) এবং দুর্গাপুর ঠিকাদার মজদুর সংঘের সদস্যরা। কর্তৃপক্ষের এই ‘শ্রমিক বিরোধী’ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে একজোট হয়ে জোরালো আন্দোলনে নামেন তাঁরা।
শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বদের দাবি, সম্প্রতি একটি নোটিশের মাধ্যমে তাঁদের নজরে আসে যে কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রায় ৪০ শতাংশ ঠিকা শ্রমিককে একধাক্কায় ছাঁটাই করার নীল নকশা তৈরি করছে। কারখানার উৎপাদন সচল রাখতে যে শ্রমিকরা দিনরাত এক করে কাজ করছেন, তাঁদের এভাবে আচমকা বসিয়ে দেওয়ার চক্রান্ত কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে বিএমএস।
এদিনের বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা এবং কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিয়েও সুর চড়ান আন্দোলনকারীরা। বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগগুলি হলো দীর্ঘদিন ধরে ঠিকা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি থেকে মোটা অঙ্কের টাকা কাটমানি হিসেবে কেটে নেওয়া হচ্ছে। এই দুর্নীতির শেষ দেখতে চান তারা।তাই কোনও মধ্যস্থতাকারী বা ঠিকাদারের মাধ্যমে নয়, শ্রমিকদের ঘাম ঝরানো বেতন সরাসরি তাঁদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠাতে হবে কর্তৃপক্ষকে।এছাড়া ইএসআই (ESI), পিএফ (PF)-সহ সমস্ত রকমের বিধিবদ্ধ সরকারি সুযোগ-সুবিধা অবিলম্বে নিশ্চিত করতে হবে।
বিএমএস নেতৃত্বের দাবি “শ্রমিকদের রুটি-রুজিতে টান মারার চেষ্টা হলে আমরা হাত গুটিয়ে বসে থাকব না। যদি অবিলম্বে এই ছাঁটাইয়ের চক্রান্ত বন্ধ না হয় এবং শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিদাওয়া মেনে নেওয়া না হয়, তবে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর এবং তীব্র আন্দোলনে নামবে সংগঠন।”
সোমবার সকালের এই আকস্মিক বিক্ষোভের জেরে কারখানার প্রধান গেটের সামনে বেশ কিছুক্ষণের জন্য উত্তেজনা ছড়ায়। তবে কারখানা কর্তৃপক্ষের তরফে এই ছাঁটাইয়ের অভিযোগ বা শ্রমিকদের দাবিদাওয়া নিয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি। শ্রমিক সংগঠনগুলি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দাবি পূরণ না হলে এই আন্দোলন আরও দীর্ঘস্থায়ী রূপ নেবে

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *