নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: মাধ্যমিকের সময় যে আশা অপূর্ণ থেকে গিয়েছিল, উচ্চ মাধ্যমিকের বৈতরণী পার হয়ে সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছল অভিমন্যু। রাজ্যের মেধাতালিকায় নবম স্থান— দুর্গাপুরের হর্ষবর্ধন অ্যাভিনিউয়ের সিং পরিবারের ছেলে অভিমন্যু সিংয়ের এই সাফল্যে খুশির জোয়ার শিল্পাঞ্চলজুড়ে। টি এন উচ্চ বিদ্যালয়ের এই কৃতী ছাত্রের প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৮।
অভিমন্যুর বাবা দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (ডিভিসি)-এর কর্মী। ছোটবেলা থেকেই বইয়ের পাতায় মগ্ন থাকতে ভালোবাসত অভিমন্যু। তবে তার এই লড়াই নিছক নম্বরের জন্য নয়, বরং এক বৃহত্তর লক্ষ্যের দিকে। ভবিষ্যতের লক্ষ্য স্থির করে ফেলেছে সে। অভিমন্যুর কথায়, “আমি একজন বড় ডাক্তার হতে চাই। কারণ সমাজে আদর্শ চিকিৎসকের বড় প্রয়োজন।” নিজের সাফল্য নিয়ে সে জানায়, ফল ভালো হবে জানত, কিন্তু রাজ্যের সেরা দশের তালিকায় ঠাঁই হবে, তা কিছুটা অপ্রত্যাশিতই ছিল।
ছেলের এই সাফল্যে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি মা মিতালী সিং। তাঁর চোখে তখন জল, কিন্তু সে জল আনন্দের। ঠাকুর রামকৃষ্ণদেব আর মা সারদার চরণে প্রণাম জানিয়ে তিনি বলেন, “মাধ্যমিকের সময় ভেবেছিলাম ছেলে প্রথম দশে থাকবে, কিন্তু সেবার হয়নি। উচ্চ মাধ্যমিকে সেই স্বপ্ন পূরণ হল। আমি গর্বিত।”
টি এন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাছেও অভিমন্যু ছিল ‘চোখের মণি’। এদিন তার ফল প্রকাশের খবর পৌঁছতেই স্কুলে শুরু হয়ে যায় মিষ্টিমুখ। পাড়ার বাসিন্দাদের কথায়, অভিমন্যুর এই সাফল্য শুধু একটি পরিবারের নয়, গোটা দুর্গাপুরের গর্ব।
শিল্পশহরের ধোঁয়া আর ধুলোর মাঝে এক টুকরো উজ্জ্বল রোদ্দুর হয়ে উঠল অভিমন্যুর এই কৃতিত্ব। লক্ষ্য এখন একটাই— স্টেথোস্কোপ হাতে আর্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *