নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: বৈশাখের চড়া রোদ আর খনি অঞ্চলের তপ্ত হাওয়াকে উপেক্ষা করেই সাগরভাঙার রাস্তায় আছড়ে পড়ল রুপোলি গ্ল্যামার। আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত দুর্গাপুরের তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্তের সমর্থনে প্রচারে এলেন অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। নাচে-গানে বা তপ্ত বক্তৃতায় নয়, বরং চিরপরিচিত মিষ্টি হাসি আর জনসংযোগের মোড়কেই শনিবার ঘাসফুল শিবিরের ‘স্টার ফ্যাক্টর’ হয়ে উঠলেন রঞ্জিত-কন্যা।
শনিবার দুপুরে যখন প্রচার শুরু হয়, তখন সাগরভাঙ্গা এলাকায় থার্মোমিটারের পারদ বেশ চড়া। কিন্তু কোয়েলকে দেখতে কাতারে কাতারে মানুষ রাস্তার দুধারে ভিড় জমিয়েছিলেন। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীদের উচ্ছ্বাস ছিল বাঁধভাঙা। নীল-সাদা পাড়ের শাড়িতে যখনই অভিনেত্রী হুডখোলা জিপ থেকে হাত নাড়লেন, ভিড় সামলাতে কালঘাম ছুটল পুলিশের।
সাগরভাঙ্গা এলাকায় পায়ে হেঁটে প্রচারের সময় অভিনেত্রীকে ঘিরে ধরেন মহিলারা। কারোর আবদার সেলফি, কেউ বা হাত মেলাতে চান। স্মিত হাসিতে সব সামলে কোয়েল বললেন, ‘‘বাংলা জুড়ে যে উন্নয়নের কাজ চলছে, তাকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। দুর্গাপুরের ঘরের ছেলে কবি দত্তকে জেতানো মানে সেই উন্নয়নের ধারাকে ত্বরান্বিত করা।’’ রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি থেকে নিজেকে সযত্নে দূরে সরিয়ে রেখে তাঁর সোজাসাপটা আবেদন— ‘‘শুভ কাজের জন্য মানুষের আশীর্বাদ প্রার্থনা করতে এসেছি।’’
প্রচার কর্মসূচিতে উপস্থিত স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, কোয়েলের এই উপস্থিতিতে এলাকার দলীয় কর্মীদের মনোবল এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। শিল্পাঞ্চলের রাজনীতির যে রুক্ষ মেজাজ, সেখানে অভিনেত্রীর এই ‘সফ্ট পাওয়ার’ কতটা ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয়, সেটাই এখন দেখার। তবে গ্ল্যামার আর রাজনীতির এই যুগলবন্দিতে শনিবার দুপুরের সাগরভাঙ্গা যে বেশ সরগরম ছিল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
যদিও অভিনেত্রীর এই প্রচারকে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিরোধীরা। বিজেপির দাবি, ‘‘ভোটের ময়দানে মানুষের পাশে পাওয়া যায় না বলেই এখন গ্ল্যামার আমদানির প্রয়োজন পড়ছে।’’ তবে সে সব কথায় কান না দিয়ে কবি দত্তের হয়ে প্রচার সেরে এদিন বিকেলেই কলকাতার পথে রওনা দেন অভিনেত্রী।সব মিলিয়ে, ভোটের মরশুমে শিল্পশহরের রাজপথে যেন সিনেমার পর্দা আর বাস্তবের রাজনীতি মিলেমিশে একাকার হয়ে গেল।