নিজস্ব প্রতিনিধি,দুর্গাপুর:২০৪৭ সালের মধ্যে ‘বিকশিত ভারত’ গড়ে তুলতে হলে বাংলার সার্বিক উন্নয়ন অপরিহার্য বলে মন্তব্য করলেন ভারতীয় জনতা পার্টির জাতীয় সভাপতি শ্রী নীতিন নবীন। মঙ্গলবার দুর্গাপুরে আয়োজিত ‘কমল মেলা’-র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বাংলার সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক, বৌদ্ধিক ও শৈল্পিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বলেন, বিকশিত বাংলা ছাড়া বিকশিত ভারতের লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব নয়।

অনুষ্ঠানের সূচনায় ভারত মাতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন শ্রী নবীন। বিজেপির জাতীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই প্রথম বাংলার মাটিতে এসে ভারত মাতার প্রতিকৃতিতে প্রণাম জানিয়ে কোনও কর্মসূচির সূচনা করলেন তিনি। ভাষণে তিনি বলেন, ‘কমল মেলা’-র মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে ভারতীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত করার প্রয়াস নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই মেলা বাংলার স্থানীয় শিল্পী ও কুটির শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষদের জন্য একটি শক্তিশালী মঞ্চ তৈরি করেছে, যাতে তারা নিজেদের পণ্য প্রদর্শন ও ব্যবসার প্রসার ঘটাতে পারেন।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার উন্নয়ন ও তার ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান বিজেপি সভাপতি। তিনি বলেন, রাজা রামমোহন রায়, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মতো মনীষীদের কর্মভূমি বাংলা, যাঁদের চিন্তা ও অবদান আজও সমগ্র দেশকে পথ দেখায়। শান্তিনিকেতনের মতো প্রতিষ্ঠান এবং নন্দলাল বসুর শিল্পকর্ম ভারতীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বদরবারে আলাদা পরিচয় দিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ভাষণে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচিত ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০তম বর্ষপূর্তি প্রসঙ্গ টেনে শ্রী নবীন বলেন, এই গান জাতীয় জাগরণ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনাকে যুগের পর যুগ জীবন্ত রেখেছে। যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি স্বামী বিবেকানন্দের আদর্শ অনুসরণ করে ধৈর্য ও লক্ষ্যনিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে চলার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শ্রী শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শ্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ও পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত শ্রী সুনীল বনসাল, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী সুকান্ত মজুমদার, শ্রী নিশীথ প্রামাণিক, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি শ্রী দিলীপ ঘোষ, সাংসদ শ্রী সৌমিত্র খানসহ একাধিক নেতা।

এর আগে দুর্গাপুর বিমানবন্দরে শ্রী নীতিন নবীনকে ঐতিহ্যবাহী ঢোল ও সঙ্গীতের মাধ্যমে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান দলীয় কর্মী ও সমর্থকরা। বিমানবন্দর থেকে অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত পথে পথে ফুলের বৃষ্টি ও স্লোগানে তাঁকে স্বাগত জানানো হয।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *