নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: শেষ হলো দীর্ঘ কয়েক দশকের এক রাজনৈতিক সফর। রবিবার গভীর রাতে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক তথা দেশের প্রাক্তন রেলমন্ত্রী মুকুল রায়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাত প্রায় দেড়টা নাগাদ মৃত্যু হয় তাঁর। বেশ কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত এবং স্নায়বিক নানা গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুসংবাদ নিশ্চিত করেছেন ছেলে শুভ্রাংশু রায়। বাবার প্রয়াণ সংবাদ পেয়ে তিনি কাঁচরাপাড়া থেকে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন। এক নজরে মুকুল রায়ের রাজনৈতিক জীবন: ভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। এক সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর দলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দলের সংগঠন বিস্তারে তাঁর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। পরিচিত ছিলেন তৃণমূলের চাণক্য হিসাবে।পাশপাশি দেশের রেলমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন অত্যন্ত দক্ষতার সাথে। জাতীয় স্তরেও তিনি ছিলেন এক পরিচিত মুখ। ২০১৭ সালে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন এবং ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে জয়ী হন। তবে নির্বাচনের পরেই তিনি পুনরায় তাঁর পুরনো দল তৃণমূলে ফিরে আসেন। দলবদল নিয়ে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে সরব হয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব। মামলাটি সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ালে, আদালত মানবিক দিক বিবেচনা করে হাইকোর্টের পদ খারিজের নির্দেশের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছিল। মুকুল রায়ের প্রয়াণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শোকের ছায়া নেমে এসেছে সব রাজনৈতিক শিবিরে। দলমত নির্বিশেষে বহু নেতা-কর্মী তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করেছেন। হাসপাতালের বাইরে গভীর রাত থেকেই তাঁর অনুরাগী ও অনুগামীদের ভিড় জমতে শুরু করেছে।মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায় জানিয়েছেন, হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার পর পরবর্তী শেষকৃত্যের কর্মসূচি জানানো হবে। তাঁর প্রয়াণে বাংলার রাজনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ ধসে পড়ল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। Share Post Whatsapp Share Post navigation ”ইসি নয়, এ তো তুঘলকি কমিশন!” নবান্ন থেকে দিল্লির বিরুদ্ধে তোপ মমতার বাংলায় প্রার্থী হতে পারেন ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী , জল্পনায় বাঘমুন্ডি