রাজ্যজুড়ে আদালতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত: কলকাতা থেকে দুর্গাপুর, সর্বত্র বোমাতঙ্ক ও ‘উড়ো ফোনে’র ছায়া
নিজস্ব প্রতিনিধি,২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬:মঙ্গলবার রাজ্যজুড়ে এক নজিরবিহীন পরিস্থিতির সাক্ষী থাকল আদালত চত্বরগুলি। কলকাতা থেকে আসানসোল, দুর্গাপুর থেকে চুঁচুড়া— একের পর এক আদালতে ‘উড়ো ফোনে’ বোমা থাকার খবর ছড়াতেই তীব্র আতঙ্ক ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। বিচারপ্রক্রিয়া মাঝপথে থামিয়ে তড়িঘড়ি খালি করে দেওয়া হয় আদালত চত্বর।
দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে বোমাতঙ্ক ছড়াতেই আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা কাজ ফেলে বাইরে বেরিয়ে আসেন। আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের এসিপি সুবীর রায় জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত বম্ব স্কোয়াডকে তলব করা হয়েছে এবং গোটা এলাকা ঘিরে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।
অন্যদিকে, আসানসোল জেলা আদালতে একটি উড়ো ফোন আসার পরেই জেলা বিচারকের নির্দেশে গোটা ভবন ফাঁকা করে দেওয়া হয়। স্নিফার ডগ নিয়ে প্রতিটি ঘরে তল্লাশি চালায় বিশেষজ্ঞরা। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পুরো পরিস্থিতির তদারকি করছেন।
রাজ্যের রাজধানীর বুকেও একই ছক দেখা গিয়েছে। কলকাতার নগর দায়রা আদালতে বোমাতঙ্ক ছড়াতেই এলাকায় শোরগোল পড়ে যায়। পুলিশ দ্রুত পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে। বম্ব স্কোয়াডের কর্মীরা মেটাল ডিটেক্টর ও স্নিফার ডগ নিয়ে আদালতের প্রতিটি তলায় তল্লাশি চালান। উড়ো ফোনের উৎস কী এবং কে এই ফোন করেছিল, লালবাজারের গোয়েন্দারা তা খতিয়ে দেখছেন।
তালিকায় বাদ পড়েনি চুঁচুড়া আদালতও। সেখানেও কাজ চলাকালীন বোমাতঙ্ক ছড়ায় এবং মুহূর্তের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। নিরাপত্তার খাতিরে সাধারণ মানুষ ও আইনজীবীদের আদালত চত্বরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়।
একই দিনে একাধিক স্পর্শকাতর জায়গায় এই ধরণের হুমকি নিছক মস্করা নাকি কোনো গভীর ষড়যন্ত্র, তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে রাজ্য পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগ। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, কোথাও কোনো সন্দেহজনক বস্তু মেলেনি, তবে আতঙ্ক এখনো কাটেনি।
