নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে রাজ্যে। আর সেই ভোটযুদ্ধের উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে শনিবার রাতেই বঙ্গভূমিতে পা রাখলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শনিবার রাতে বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে অন্ডালের কাজী নজরুল ইসলাম বিমানবন্দরে নামেন তিনি। সেখান থেকে কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সড়কপথে পৌঁছান দুর্গাপুরে।
শনিবার প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে কার্যত দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত হয়েছিল শিল্পশহর। বিমানবন্দর থেকে সিটি সেন্টারের বেসরকারি হোটেল পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে মোতায়েন ছিল কয়েক হাজার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপ (SPG)-এর কড়া নজরদারিতে প্রধানমন্ত্রীর কনভয় যখন হোটেলের সামনে পৌঁছায়, তখন সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিজেপির শীর্ষ স্থানীয় একাধিক নেতা। রাতটুকু দুর্গাপুরেই কাটিয়ে রবিবার সকাল থেকে হাই-ভোল্টেজ প্রচার অভিযানে নামবেন তিনি। রবিবার রাজ্যের একাধিক জায়গায় জনসভা করার কথা রয়েছে তাঁর।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ চড়েছে রাজনৈতিক মহলে। একদিকে গেরুয়া শিবিরের দাবি, মোদি-ঝড়েই কুপোকাত হবে বিরোধীরা। অন্যদিকে, শাসক দল তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই সফরকে ‘নির্বাচনী স্টান্ট’ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তবে সেয়ানে সেয়ানে লড়াইয়ের এই আবহে প্রধানমন্ত্রীর শিল্পাঞ্চলে রাত্রিযাপন বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। স্থানীয় এক বিজেপি নেতা বলেন “রাজ্যের আসন্ন নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রীর এই সক্রিয় উপস্থিতি কর্মীদের মনোবল কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বাংলার মানুষ এবার পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।”
রবিবার সকালে দুর্গাপুর থেকেই শুরু হবে প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী সফর। রবিবার সকালে ভগৎ সিং স্টেডিয়ামের অস্থায়ী হেলিপ্যাড থেকে কাপ্টারে তিনি রওনা দেবেন জনসভার উদ্দেশ্যে।তাকে এক ঝলক দেখতে সকাল থেকেই জমায়েত হতে শুরু করেছে মানুষ। এখন দেখার, প্রধানমন্ত্রীর এই ঝোড়ো প্রচার ভোটবাক্সে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে।