নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: দলে ‘প্রভাব’ খাটিয়ে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে— খোদ দলেরই একাংশের বিরুদ্ধে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন দুর্গাপুর নগর নিগমের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর মানস রায়। প্রতারণা ও তোলাবাজির অভিযোগে বৃহস্পতিবারই তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল দুর্গাপুর থানার পুলিশ। শুক্রবার দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করার সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নিজের দলের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দেন ধৃত প্রাক্তন কাউন্সিলর। পুলিশ সূত্রের খবর, মানসবাবুর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও তোলাবাজির লিখিত অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর বৃহস্পতিবার তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার তাঁকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। কড়া পুলিশি পাহারায় আদালতে ঢোকার মুখে মানসবাবু চিৎকার করে দাবি করেন, ‘‘দলেরই কেউ প্রভাব খাটিয়ে আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছে।’’ তবে দলের ঠিক কোন নেতার দিকে তাঁর এই ইঙ্গিতের তির, তা অবশ্য খোলসা করেননি তিনি। উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই নিজের ফেসবুক প্রোফাইলে একটি ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করেছিলেন মানস রায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, সেই পোস্টের পর থেকেই শাসকদলের অন্দরে জলঘোলা শুরু হয়েছিল। তার রেশ কাটতে না কাটতেই প্রাক্তন কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসা এবং তড়িঘড়ি পুলিশের এই গ্রেপ্তারির পদক্ষেপকে ঘিরে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তৃণমূলের প্রাক্তন কাউন্সিলরের এই মন্তব্যের পর দুর্গাপুরের রাজনৈতিক মহলে জোর তরজা শুরু হয়েছে। একে শাসকদলের অন্তর্দ্বন্দ্বের জের বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে দলের অস্বস্তি বাড়িয়ে প্রাক্তন কাউন্সিলরের এই অভিযোগের বিষয়ে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এর নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। Share Post Whatsapp Share Post navigation জেল হেফাজতে বুদবুদের সেই ‘দাপুটে’ মনা, ‘চক্রান্ত’ দেখছেন ধৃত তৃণমূল নেতা