নিজস্ব প্রতিবেদন, দুর্গাপুর: বাড়িতেই ছিল অষ্টম শ্রেণীর নাবালিকা ছাত্রীটি। আচমকাই তাকে ডেকে নিয়ে যায় এক বান্ধবী। আর সেই বান্ধবীর ডাকে সাড়া দেওয়াই কাল হল নাবালিকার। গাড়িতে তুলে প্রথমে মদের সঙ্গে ওষুধ মিশিয়ে সংজ্ঞাহীন করা, আর তারপর হোটেলের বন্ধ ঘরে নিয়ে গিয়ে রাতভর গণধর্ষণ! দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকার এই রোমহর্ষক ও নৃশংস ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে শিল্পাঞ্চলে। নির্যাতিতা নাবালিকা বর্তমানে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশ সূত্রে খবর, শনিবার রাতের এই ঘটনার পর নির্যাতিতার পরিবারের পক্ষ থেকে দুর্গাপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। রবিবার সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি। ইতিমধ্যেই রাজ মল্লিক এবং শেখ আজারুদ্দিন-সহ তিন অভিযুক্ত যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার তদন্তে নেমেছে ফরেন্সিক দলও। হোটেল ও গাড়িটি থেকে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বান্ধবীর ‘ফুঁসলে’ অপহরণ, গাড়িতেই ষড়যন্ত্র
নির্যাতিতার বাবার অভিযোগ, শনিবার বুদবুদ থানা এলাকার বাসিন্দা ওই নাবালিকাকে বাড়ি থেকে ফুঁসলিয়ে ডেকে নিয়ে যায় সিমরান তামাং নামে এক তরুণী। সে নাবালিকার পূর্বপরিচিত বা বান্ধবী বলেই প্রকাশ। অভিযোগ, একটি চার চাকার গাড়িতে তোলার পর নাবালিকাকে জোর করে মদ্যপান করানো হয়। যাতে সে বাধা দিতে না পারে, তাই মদের সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল কড়া ঘুমের ওষুধ।
অচৈতন্য প্রায় ওই নাবালিকাকে এরপর তিন যুবকের হাতে তুলে দেয় সিমরান। গাড়ি ছুটিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের কবিগুরু এলাকার একটি হোটেলে।
হোটেলের ঘরে ‘পাশবিক নির্যাতন’
পরিবারের দাবি, কবিগুরু এলাকার ওই হোটেলের ঘরে নিয়ে গিয়ে রাজ মল্লিক, শেখ আজারুদ্দিন এবং তার এক সঙ্গী ওই নাবালিকার উপর নারকীয় ও পাশবিক নির্যাতন চালায়। রাতভর অত্যাচারের পর সংজ্ঞাহীন ও রক্তাক্ত অবস্থায় নাবালিকাকে বুদবুদ বাইপাস সংলগ্ন একটি নির্জন এলাকায় ফেলে রেখে চম্পট দেয় অভিযুক্তরা।
নির্যাতিতার বাবার জানান “মেয়েকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মদের সাথে ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছিল যাতে মেয়ে বেহুঁশ হয়ে যায়। তারপর তিন যুবকের সঙ্গে হোটেলের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়। মেয়ের সাথে ওরা গণধর্ষণ করেছে। এক টোটোওয়ালা ওকে ওভাবে পড়ে থাকতে দেখে বাড়িতে পৌঁছে দেয়। আমরা থানায় অভিযোগ করেছি, এই নরপশুদের চরম শাস্তি চাই।”
তদন্তে পুলিশ ও ফরেন্সিক দল
শনিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ পরিবারের সদস্যরা যখন অর্ধচেতন অবস্থায় মেয়েকে ফেরত পান, তখনই গোটা বিষয়টি সামনে আসে। কালবিলম্ব না করে দুর্গাপুর থানার দ্বারস্থ হয় পরিবার।
পুলিশ জানিয়েছে, পকসো (POCSO) আইনসহ গণধর্ষণের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। যে হোটেলের ঘরে এই নৃশংস কাণ্ড ঘটেছে, সেখানকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মূল অভিযুক্তদের পাশাপাশি ওই বান্ধবী সিমরান তামাং-এর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই চক্রের পেছনে অন্য কোনো নারী পাচার চক্রের হাত রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *