নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর:বিধানসভা নির্বাচনের মহাযুদ্ধে শিল্পাঞ্চলকে পাখির চোখ করল বিজেপি। সোমবার দুর্গাপুরের চণ্ডীদাস এভিনিউতে পা রেখে কার্যত শক্তিময়দান করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দুর্গাপুর পূর্বের প্রার্থী চন্দ্রশেখর ব্যানার্জি এবং পশ্চিমের লক্ষণ ঘড়ুইকে পাশে নিয়ে তাঁর রোড শো-কে কেন্দ্র করে গেরুয়া শিবিরের উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। রোড শো শেষে চণ্ডীদাস মার্কেটের সংক্ষিপ্ত সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে শাহের সাফ কথা, “২৩ তারিখ (ভোটের দিন) তৃণমূলের গুন্ডারা ঘরেই থাকুন, নয়তো ৫ মে-র পর খুঁজে খুঁজে জেলে ভরব। দুর্নীতিবাজদের উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করার দায়িত্ব আমাদের।”
অনুপ্রবেশ ও ভোটার তালিকা নিয়ে হুঙ্কার
এদিন শাহের নিশানায় ছিল অনুপ্রবেশ ইস্যু। সুপ্রিম কোর্ট ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা টেনে তিনি বলেন, “মমতা দিদি যতই বাধা দেওয়ার চেষ্টা করুন, এখন একজন একজন করে অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলাকে সম্পূর্ণ অনুপ্রবেশমুক্ত করা হবে।”
বেকারভাতা ও শিল্পায়নের ‘মাস্টারস্ট্রোক’
শিল্পাঞ্চলের যুবকদের মন জয়ে এদিন বড়সড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, বাংলায় শিল্প আসার বদলে সব বাইরে চলে যাচ্ছে। এর প্রতিকারে শাহের ঘোষণা, রাজ্যে ৪টি বড় শিল্প শহর (Industrial Town) গড়ে তোলা হবে। বেকার যুবকরা চাকরি না পাওয়া পর্যন্ত মাসে ৩০০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। মহিলাদের অ্যাকাউন্টেও মাসে ৩০০০ টাকা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
সীমান্ত সুরক্ষা ও বিএসএফ প্রসঙ্গ
সীমান্ত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে শাহ দাবি করেন, কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য ৬০০ একর জমি দিচ্ছে না নবান্ন। তাঁর প্রতিশ্রুতি, “বিজেপি ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যেই সেই জমি বিএসএফ-এর হাতে তুলে দেওয়া হবে।”
এদিন চণ্ডীদাস এভিনিউ থেকে চণ্ডীদাস মার্কেট পর্যন্ত শাহের যাত্রাপথে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। স্লোগান ও দলীয় পতাকায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল গোটা এলাকা। বক্তব্যের শেষে ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আহ্বান জানান, মোদী সরকারের হাত শক্ত করতে শিল্পাঞ্চলের দু’টি আসনেই পদ্ম ফোটানো এখন সময়ের দাবি। রাজনৈতিক মহলের মতে, শাহের এই ‘ভাতা’ ও ‘হুঁশিয়ারি’র জোড়া কৌশল শিল্পাঞ্চলের ভোটবাক্সে কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।