নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: একে চৈত্র শেষের দহন, তায় ভোটের উত্তাপ— দুইয়ে মিলে শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের পারদ এখন ঊর্ধ্বমুখী। তবে রাজনীতির এই ‘তপ্ত’ পিচে এবার ছক্কা হাঁকাতে এক ভিন্ন স্বাদের কৌশল নিল ঘাসফুল শিবির। মিছিলে স্লোগান বা মাইকে প্রচার তো আছেই, কিন্তু দুর্গাপুরের রামকৃষ্ণ এভিনিউতে দেখা গেল সম্পূর্ণ অন্য ছবি। ভোটারদের হাতে এবার পৌঁছে যাচ্ছে আস্ত এক ‘সাপ-লুডু’র বোর্ড!
নির্বাচনী প্রচারে এমন ‘খেলাধুলো’ দেখে কার্যত থমকে দাঁড়াচ্ছেন পথচলতি মানুষ থেকে শুরু করে গাড়ি চালকরাও। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতৃত্বের এই অভিনব উদ্যোগকে ঘিরে শিল্পনগরীতে এখন প্রবল কৌতূহল।
সাপের মুখে মোদী-শাহ, মইয়ে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার
তৃণমূলের তৈরি এই বিশেষ লুডু বোর্ডে রাজনীতির ছোঁয়া পরতে পরতে। বোর্ডের বিভিন্ন ঘরে সাপের মাথার জায়গায় বসানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, কিংবা রাজ্যের বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার ও শমীক ভট্টাচার্যের কার্টুন। তৃণমূলের বার্তা স্পষ্ট— বিজেপির ঘরে পা রাখা মানেই সাপের মুখে পড়া অর্থাৎ উন্নয়নের অবনতি।
বিপরীতে, বোর্ডে যে মই বা সিঁড়িগুলি রয়েছে, সেখানে জ্বলজ্বল করছে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন জনমুখী প্রকল্পের নাম। ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ থেকে ‘কন্যাশ্রী’— তৃণমূলের দাবি, জোড়াফুলে আস্থা রাখা মানেই উন্নয়নের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠা।
কেন এই অভিনব কৌশল?
তৃণমূল নেতা পল্লব রঞ্জন নাগ স্পষ্টই জানালেন, গতানুগতিক রাজনৈতিক ভাষণের চেয়ে এই পদ্ধতি অনেক বেশি কার্যকরী। তাঁর কথায়, “মানুষ যাতে সহজে বুঝতে পারেন বিজেপিকে ভোট দিলে কী ক্ষতি হতে পারে এবং তৃণমূলের আমলে কী কী সুবিধা মিলছে, তাই এই খেলার ছলে প্রচার। আমরা চাইছি সাধারণ মানুষের ঘরের ড্রয়িংরুম পর্যন্ত পৌঁছে যেতে।”
শুধুই কি বোর্ড বিলি? গরমে নাজেহাল পথচারীদের তৃষ্ণা মেটাতে ঠান্ডা পানীয়র ব্যবস্থাও করেছে তৃণমূল। প্রচারের এই ‘মিষ্টি’ মোড়ক ভোটারদের কতটা টানতে পারবে, তা নিয়ে জোর চর্চা চলছে।
কটাক্ষ বিজেপির
তৃণমূলের এই ‘সাপ-লুডু’কে অবশ্য গুরুত্ব দিতে নারাজ গেরুয়া শিবির। বিজেপির জেলা মুখপাত্রের পাল্টা তোপ,
“তৃণমূল আসলে পায়ের তলার মাটি হারিয়ে এখন খেলার আশ্রয় নিচ্ছে। সাপ-লুডু খেলে মানুষের মন জেতা যায় না। রাজ্যের মানুষ দুর্নীতির সাপকে চিনে নিয়েছেন, তাই এবার ইভিএমে তাঁরা পরিবর্তনের মই বেছে নেবেন।”
রাজনীতির আঙিনায় হার-জিতের লড়াই তো চলতেই থাকে, কিন্তু দুর্গাপুরের এই ‘সাপ-লুডু’ প্রচার যে ভোটের বাজারে এক নতুন মাত্রা যোগ করল, তা মানছেন রাজনীতির কারবারিরাও। এখন দেখার, শেষ পর্যন্ত ভোটের ঘুঁটি চাললে কোন দল মই বেয়ে ওপরে ওঠে আর কে সাপের মুখে পড়ে নিচে নামে!