নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর:একে তো এপ্রিলের তপ্ত দ্বিপ্রহর, তার উপর আক্ষরিক অর্থেই ‘অগ্নিগর্ভ’ রাজনৈতিক পরিস্থিতি। কিন্তু প্রকৃতির রুদ্ররোষের কাছে শেষমেশ হার মানল সেলিব্রিটি গ্ল্যামার। শনিবার দুপুরে দুর্গাপুরের রাজপথে মিঠুন চক্রবর্তীকে ঘিরে যে উন্মাদনার পারদ চড়তে শুরু করেছিল, তীব্র গরমে তাতে জল ঢেলে দিল খোদ ‘মহাগুরু’-র শারীরিক অস্বস্তি। মাত্র ২০০ মিটার এগোতেই রণে ভঙ্গ দিলেন বিজেপি নেতা। হতাশ কর্মী-সমর্থকদের ভিড় সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন ‘অসমাপ্ত’ চিত্রনাট্যের।
এ দিন দুপুরে দুর্গাপুরের কুড়ুরিয়া ভাঙা বাসস্ট্যান্ড থেকে রোড শো শুরু করার কথা ছিল মিঠুন চক্রবর্তীর। সঙ্গে ছিলেন দুর্গাপুর পশ্চিমের পদ্ম-প্রার্থী লক্ষণ ঘড়ুই। হুডখোলা ট্রাকের উপর মহাগুরু উঠতেই রাস্তার দু’ধারে অপেক্ষারত জনতার বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস চোখে পড়ে। কিন্তু সেই আবহে তাল কাটল গরম। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ট্রাক চলতে শুরু করার কিছুক্ষণের মধ্যেই মিঠুনের চোখে-মুখে অস্বস্তির ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মাথার উপর ধরা ছাতা বা কর্মীদের হাজারো চেষ্টাতেও সুরাহা হয়নি।
প্রায় ২০০ মিটার যাওয়ার পরই মেজাজ হারায় পরিস্থিতি। ট্রাক থেকে নেমে তড়িঘড়ি নিজের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়েন অভিনেতা। এরপর আর চাকা গড়ায়নি রোড শো-র। দীর্ঘক্ষণ গাড়ির ভেতরেই বসে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। দূরদূরান্ত থেকে আসা যে অনুগামীরা প্রিয় অভিনেতার মুখে ‘মারব এখানে লাশ পড়বে শ্মশানে’-র মতো সংলাপ শোনার আশায় চাতক পাখির মতো বসেছিলেন, তাঁদের কপালে জুটল কেবল হতাশা।
বিজেপি শিবিরের দাবি, প্রখর রোদ আর লু-এর দাপটে মিঠুনবাবু শারীরিক অসুস্থতা বোধ করছিলেন। ঝুঁকি না নিতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, রোড শো মাঝপথে থেমে যাওয়া শুধু শারীরিক কারণ নয়, বরং সাংগঠনিক ব্যবস্থাপনার ত্রুটিও হতে পারে।
এ দিকে মিঠুন যখন গাড়ির আশ্রয়ে, তখনই রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়াল অন্য এক দৃশ্য। ‘আমরাই মোড়’ চত্বরে আচমকাই একদল মানুষের কণ্ঠে শোনা গেল ‘জয় বাংলা’ স্লোগান। গেরুয়া শিবিরের মেগা ইভেন্টের মাঝে এই বিরোধী সুর ঘিরে এলাকায় সাময়িক চাঞ্চল্য ছড়ায়। সব মিলিয়ে, শনিবারের দুর্গাপুর দেখল এক ছন্নছাড়া প্রচারচিত্র— যেখানে জনজোয়ার থাকলেও সংলাপে ইতি টানল প্রকৃতির উত্তাপ।