নিজস্ব প্রতিবেদন, পাণ্ডবেশ্বর: রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা এক মহিলার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল পশ্চিম বর্ধমানের পাণ্ডবেশ্বর। মৃতার নাম সুন্দরা সূত্রধর (৩৬), তিনি পাণ্ডবেশ্বরের হুচুকডাঙা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। গত কয়েকদিন ধরে তাঁর আবাসন নিয়ে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে যে চাপানউতোর চলছিল, শুক্রবার তাঁর মৃত্যুর পর সেই বিতর্ক চরম আকার ধারণ করেছে।ঘটনার সূত্রপাত কয়েকদিন আগে, যখন বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তিওয়ারি অভিযোগ করেন যে, ওই মহিলা অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থায় একটি ভাঙা গোয়ালঘরে বসবাস করছেন। এই অভিযোগকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকারের আবাসন প্রকল্পের ব্যর্থতা নিয়ে সরব হয় গেরুয়া শিবির। পাল্টা আসরে নামে তৃণমূল কংগ্রেস। ঘাসফুল শিবিরের পক্ষ থেকে একটি ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করা হয়, মহিলার নিজস্ব পাকা বাড়ি রয়েছে এবং রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে বিষয়টি নিয়ে মিথ্যা প্রচার করা হচ্ছে। এই ভিডিও যুদ্ধের মাঝেই শুক্রবার সকালে মহিলার অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। তিনি শোকার্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সবরকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। তিনি জানান, “পুরো বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে এবং দোষী কেউ থাকলে রেহাই পাবে না।” অন্যদিকে, ঘটনার গুরুত্ব বুঝে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে হুচুকডাঙা এলাকায়। পুলিশ মহিলার দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এই মৃত্যুকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা বিজেপির দাবি, মহিলার উপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল অথবা এই মৃত্যুর নেপথ্যে গভীর কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে।অন্যদিকে তৃণমূলের পাল্টা দাবি, এটি একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি হতে পারে, যা নিয়ে বিজেপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজনীতি করছে। ঘটনা সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কিছু, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলেই স্পষ্ট হবে। আপাতত এলাকার পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। Share Post Whatsapp Share Post navigation প্রথম পর্যায়ের ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে দুর্গাপুরে সর্বদলীয় বৈঠক গ্ল্যামারাস উদ্বোধনের আড়ালে কি শুধুই প্রচার? দুর্গাপুরে ‘শিশুসাথী পার্ক’ নিয়ে উঠছে একগুচ্ছ প্রশ্ন