নিজস্ব সংবাদদাতা: জেল থেকে ফেরার পর তিনি কি ‘নরম’ হয়েছেন? রাজনৈতিক মহলের এই জল্পনায় জল ঢেলে ফের স্বমহিমায় অবতীর্ণ অনুব্রত মণ্ডল। বীরভূমের সীমানা ছাড়িয়ে এবার তাঁর হুঙ্কার পৌঁছাল পাণ্ডবেশ্বরের খনি অঞ্চলে। সাফ জানিয়ে দিলেন, পাণ্ডবেশ্বরে তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী জিতছেনই, আর সেই জয়ের ব্যবধান হবে পুরো ৪০ হাজার!
আসানসোল থেকে বীরভূম— রাজনীতির পারদ চড়াতে অনুব্রত মণ্ডলের একটা মন্তব্যই যে যথেষ্ট, তা ফের প্রমাণিত। পাণ্ডবেশ্বর বিধানসভা কেন্দ্র নিয়ে এবার বড়সড় বাজি ধরলেন তিনি। আত্মবিশ্বাসের সুরে অনুব্রত দাবি করেছেন,“নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী জিতবে এবং সেই জয়ের ব্যবধান হবে কমপক্ষে ৪০ হাজার ভোট!”
‘খেলা হবে এবং জেতাও হবে!’
পাণ্ডবেশ্বরের মাটি তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হলেও, এবারের লড়াইয়ে কোনো ফাঁক রাখতে রাজি নন বীরভূমের ‘বেতাজ বাদশা’। বিরোধীদের কার্যত চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে কেষ্ট মণ্ডল বলেন,“আমি বলছি মিলিয়ে নেবেন, নরেন চক্রবর্তী ৪০ হাজারে জিতবে। ওখানে বিরোধী বলে কিছু নেই। মানুষ উন্নয়ন দেখে ভোট দেবে। আর যারা কুৎসা করছে, তাদের রেজাল্টের দিন জবাব দিয়ে দেব। খেলা হবে এবং জেতাও হবে!”অনুব্রতর এই চেনা মেজাজের মন্তব্য কি কেবলই দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে, নাকি পর্দার আড়ালে কোনো বিশেষ ‘গেমপ্ল্যান’ তৈরি করে ফেলেছেন তিনি? সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিক মহলে।
কেন এই ৪০ হাজারের হুঙ্কার?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অনুব্রতর এই দাবির নেপথ্যে তিনটি বড় কারণ থাকতে পারে, জেল থেকে ফেরার পর অনুব্রত বুঝিয়ে দিলেন বুথ স্তরে সংগঠনের রাশ এখনও তাঁর হাতেই রয়েছে।ভোটের মুখে বড় ব্যবধানের দাবি করে বিজেপি এবং অন্যান্য বিরোধীদের ওপর শুরুতেই একটা মনস্তাত্ত্বিক চাপ তৈরি করতে চাইলেন তিনি। প্রার্থী বিদায়ী বিধায়ক তথা প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ওপর দলের শীর্ষ নেতৃত্বের যে পূর্ণ আস্থা আছে, তা এই মন্তব্যে আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল।
নজর থাকবে ব্যালট বাক্সে
পাণ্ডবেশ্বরের কয়লা খনি অঞ্চল কি সত্যিই অনুব্রতর এই ‘ভবিষ্যদ্বাণী’ সফল করবে? নাকি শাসক শিবিরের এই অঙ্কে ফাটল ধরাবে বিরোধীরা? ৪০ হাজারের টার্গেট কি কেবলই গলার জোর, নাকি বাস্তবের প্রতিফলন— তা জানতে নজর থাকবে গণনাকেন্দ্রে। তবে পাণ্ডবেশ্বরের লড়াই যে এবার ‘কেষ্ট-গর্জনে’ আরও তপ্ত হয়ে উঠল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।