নিজস্ব প্রতিবেদন, দুর্গাপুর: রাজ্যে কয়লা পাচার মামলার তদন্তে ফের সক্রিয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। বুধবার সকাল থেকেই পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে পুলিশ আধিকারিক মনোরঞ্জন মণ্ডলের বাড়িতে ম্যারাথন তল্লাশি শুরু করেছেন ইডি আধিকারিকরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দিয়ে এলাকা ঘিরে রেখে এই অভিযান চালানো হচ্ছে।
কেন এই দ্বিতীয় দফার হানা?
তদন্তকারী সূত্রে খবর, পুলিশ আধিকারিক মনোরঞ্জন মণ্ডলের বিরুদ্ধে অবৈধ কয়লা ও বালি পাচারকারীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ ‘প্রোটেকশন মানি’ বা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি তাঁর দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের বাড়িতে দীর্ঘক্ষণ তল্লাশি চালিয়েছিলেন গোয়েন্দারা। সেই সময় বাজেয়াপ্ত করা নথিপত্রের ভিত্তিতে তাঁকে কলকাতার সিজিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার জন্য একাধিকবার সমন পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কারণ দেখিয়ে বারবারই সেই হাজিরা এড়িয়ে গেছেন তিনি। তদন্তে অসহযোগিতার কারণেই আজ ফের তাঁর বাড়িতে হানা দিল ইডি।
যোগসূত্র কোথায়?
জানা গেছে, কয়লা পাচার কাণ্ডে ধৃত ব্যবসায়ী চিন্ময় মণ্ডলের সঙ্গে এই পুলিশ আধিকারিকের সরাসরি যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তাঁদের মধ্যে হওয়া কিছু বিতর্কিত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য ইডির হাতে এসেছে। গোয়েন্দাদের দাবি, বারাবনি থানার ওসির দায়িত্বে থাকাকালীন কয়লা মাফিয়াদের মদত দেওয়ার অভিযোগে ২০২৪ সালেও একবার সাসপেন্ড হয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি তাঁকে বুদবুদ থানার ওসির দায়িত্ব দেওয়া হলেও ইডি তৎপরতা শুরু হতেই তাঁকে সেখান থেকে সরিয়ে আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের স্পেশাল ব্রাঞ্চে পাঠানো হয়েছিল।
এলাকায় উত্তেজনা
বুধবার সকালে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে এই তল্লাশি শুরু হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মনোরঞ্জন মণ্ডলের পাশাপাশি এদিন দুর্গাপুরের সেপকো টাউনশিপের বালি ব্যবসায়ী প্রবীর দত্তের বাড়িতেও হানা দিয়েছে ইডি। মনে করা হচ্ছে, এই দুই ব্যক্তির আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র মিলিয়ে দেখে পাচারের মূল পাণ্ডাদের কাছে পৌঁছাতে চাইছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা।