নিজস্ব সংবাদদাতা, আরামবাগ:সোমবার সকালে গোঘাটে তৃণমূল সাংসদ মিতালী বাগের ওপর হামলার ঘটনায় তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। আর সেই উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আরামবাগের জনসভা থেকে মেজাজ হারিয়ে কার্যত কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর ‘ঘড়ি ধরে’ সমস্ত ঘটনার হিসাব বুঝে নেবে তৃণমূল।
এদিন সভা থেকে অভিষেক অভিযোগ করেন, বাম জমানার সেই চেনা ‘হার্মাদ’ বাহিনী এখন স্রেফ রঙ বদলে বিজেপির ‘জল্লাদ’ হিসেবে কাজ করছে। হুঙ্কারের সুরে তিনি বলেন,“সিপিএম-এর হার্মাদরা এখন বিজেপির জল্লাদ হয়েছে। ২০১১ সালে আরামবাগের মানুষ যে সন্ত্রাস থেকে মুক্তি পেয়েছিল, সেই দিনগুলো কি আবার ফিরিয়ে আনতে চান?”একজন তফশিলি জনজাতির মহিলা সাংসদের ওপর এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিষেকের সংযোজন, “আরামবাগে ফল যাই হোক না কেন, ৪ তারিখ দুপুর ১২টার পর কোন জল্লাদের কত ক্ষমতা তা আমি দেখে নেব।”
সাংসদ মিতালী বাগের ওপর হামলায় ঠিক কারা জড়িত, এদিন মঞ্চ থেকে সরাসরি তাঁদের নামও প্রকাশ্যে আনেন অভিষেক। তিনি জানান তারা হলেন সোমাশ্রী, তাঁর স্বামী, সৌমেন পাল এবং দোলেন। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে বাকি অভিযুক্তদেরও খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
সাফ কথা, কারোর ওপর নজরদারি এড়ায়নি এবং ফল বেরোলেই আইনি ও রাজনৈতিকভাবে এর মোকাবিলা করা হবে।
সোমবার সকালে গোঘাটে বিজেপি কার্যালয়ের সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় আক্রান্ত হয় মিতালী বাগের গাড়ি। অভিযোগ, হঠাৎই একদল দুষ্কৃতী বাঁশ ও লাঠি নিয়ে তাঁর গাড়ির ওপর চড়াও হয়। ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় গাড়িতে। আক্রান্ত সাংসদের দাবি, তাঁকে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে ভয়ও দেখানো হয়েছে। ঘটনার পর মিতালী বাগকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে অভিষেক নিজে গিয়ে তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজ নেন।
এদিন অভিষেক দাবি করেন, তিনি স্রেফ ভোট চাইতে আসেননি, এসেছেন মানুষকে সচেতন করতে। আরামবাগের প্রার্থী মিতা বাগকে ‘মাটির মানুষ’ হিসেবে তুলে ধরে তিনি এক বড় রাজনৈতিক তাসও চাললেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন:
“নির্বাচনে জয়ী হলে আরামবাগকে পূর্ণাঙ্গ জেলা হিসেবে ঘোষণা করা হবে।”রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে হামলার ঘটনায় কড়া অবস্থান এবং অন্যদিকে জেলা ঘোষণার প্রতিশ্রুতি—ভোটের মুখে আরামবাগের মানুষের আবেগকে ছুঁতে মরিয়া ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। তবে ৪ মে-র ডেডলাইন যে বিরোধীদের ওপর এক প্রকার মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করল, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।