নিজস্ব প্রতিবেদন, পাণ্ডবেশ্বর:বৈশাখের তপ্ত দুপুরে পারদ চড়ছে পাণ্ডবেশ্বরে। কিন্তু সেই তাপমাত্রাকেও যেন হার মানালো টলিউডের ‘হার্টথ্রব’ শ্রাবন্তী চট্টোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক উত্তাপ। তৃণমূল প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর সমর্থনে সোমবার পাণ্ডবেশ্বরের রাস্তায় নামলেন অভিনেত্রী। আর তাঁকে ঘিরেই কার্যত জনসমুদ্রে ভাসল এলাকা। গাইঘাটা মোড় থেকে হরিপুর বাজার— মাইলের পর মাইল পথজুড়ে শুধুই মানুষের মাথা। স্লোগান আর আবিরের রঙে তখন যেন অকাল হোলি পাণ্ডবেশ্বরে।
এদিন দুপুরে গাইঘাটা মোড় থেকে যখন মেগা রোড-শো শুরু হয়, তখন থেকেই উন্মাদনার পারদ ছিল তুঙ্গে। হুডখোলা জিপে হাসিমুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন শ্রাবন্তী, পাশে প্রার্থী নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। প্রিয় তারকাকে একবার চাক্ষুষ করতে বাড়ির ছাদ থেকে শুরু করে দোকানের বারান্দা— তিল ধারণের জায়গা ছিল না কোথাও। মাঝেমধ্যেই রাস্তার দু-ধারে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের দিকে পুষ্পবৃষ্টি করেন অভিনেত্রী। ভিড়ের চাপে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, মিছিলের গতি থমকে যায় বারবার।
রাস্তার ধারের ভিড় থেকে বারবার ধেয়ে আসছিল ‘খেলা হবে’ স্লোগান। আর সেই চেনা সুরেই তাল মেলালেন শ্রাবন্তী। তবে শুধু রাজনীতি নয়, আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল অভিনেত্রীর গ্ল্যামার। এক ঝলক দেখা বা একটা সেলফি তোলার জন্য হুড়োহুড়ি পড়ে যায় সাধারণ মানুষের মধ্যে। ভিড় সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশ ও তৃণমূলের স্বেচ্ছাসেবকদের। “মানুষের এই ভালোবাসা দেখে আমি অভিভূত। নরেনদাকে জেতানোর জন্য পাণ্ডবেশ্বর আজ একজোট হয়েছে,” জিপ থেকেই হাত নেড়ে জানান শ্রাবন্তী।
মিছিল যখন হরিপুর বাজারে পৌঁছায়, তখন সেটি কার্যত এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। চারদিকে উড়ছে সবুজ আবির। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, পাণ্ডবেশ্বরে লড়াই এবার হাড্ডাহাড্ডি, তবে শ্রাবন্তীর এই গ্ল্যামার-প্রচারে তৃণমূল যে কয়েক কদম এগিয়ে গেল, তা বলাই বাহুল্য। এখন প্রশ্ন একটাই— এই জনজোয়ার কি শেষ পর্যন্ত ইভিএমে জোড়াফুলের ঝোড়ো ব্যাটিং নিশ্চিত করবে? উত্তর মিলবে ফলপ্রকাশের দিন।
আপাতত শ্রাবন্তী-জ্বরেই বুঁদ খনি অঞ্চল। ভোট আসবে, ভোট যাবে, কিন্তু পাণ্ডবেশ্বরের রাজপথে অভিনেত্রীর ওই চিলতে হাসি আর পুষ্পবৃষ্টি যে সাধারণ মানুষের মনে অনেকদিন থেকে যাবে, তা আজকের ভিড়ই প্রমাণ করে দিল।