নিজস্ব প্রতিবেদন, ঝাড়গ্রাম: বৈশাখের তপ্ত দুপুরে ঝাড়গ্রামের রাজনীতিতে এখন ‘ঝালমুড়ি’র স্বাদ। তবে সেই স্বাদ মোটেও মধুর ঠেকছে না রাজ্যের শাসক শিবিরের কাছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়ার বিরতি এবং তাঁর সফরসূচির জেরে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সভা বাতিল হওয়াকে কেন্দ্র করে আক্ষরিক অর্থেই ‘ঝাল’ লেগেছে তৃণমূলের অন্দরে। বিজেপিকে ‘আদিবাসী বিরোধী’ আখ্যা দিয়ে সুর চড়িয়েছে ঘাসফুল শিবির।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। লালগড়ের সঞ্জীব সঙ্ঘ মাঠে তৃণমূল প্রার্থী মঙ্গল সরেনের সমর্থনে একটি হাই-ভোল্টেজ সভার আয়োজন করা হয়েছিল। প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ও তাঁর স্ত্রী কল্পনা সোরেনের। তৃণমূলের দাবি, নির্বাচন কমিশনের যাবতীয় নিয়ম মেনে সভার অনুমতি আগেভাগেই নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বিধি বাম! প্রধানমন্ত্রীর সফরের কারণে ঝাড়গ্রাম এলাকাটিকে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করায় দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর সভা না করেই রাঁচি ফিরে যেতে বাধ্য হন সোরেন দম্পতি।
তৃণমূলের অভিযোগের তির সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দিকে। তাঁদের দাবি, দাঁতন ও কেশিয়াড়িতে সভা সেরে সোরেন দম্পতির ঝাড়গ্রামে আসার কথা থাকলেও নিরাপত্তার অছিলায় তাঁদের পথ আটকানো হয়েছে। জেলা তৃণমূলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী ঝাড়গ্রামে নিজের সফরসূচি ইচ্ছে করে দীর্ঘায়িত করেছেন স্রেফ ‘ঝালমুড়ি’ খাওয়ার অছিলায়। আর এই বাড়তি সময়ের কারণেই ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার (জেএমএম) সুপ্রিমোকে আকাশপথ ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়নি।এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন জেলা তৃণমূল সভাপতি দুলাল মুর্মু। তিনি বলেন,“আমরা অত্যন্ত মর্মাহত ও ধিক্কার জানাচ্ছি। এইভাবে ভারতবর্ষের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করার চেষ্টা চলছে। সব নিয়ম মেনে সভার আয়োজন করা সত্ত্বেও শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির দোহাই দিয়ে কপ্টার আটকে দেওয়া হল। বিজেপি যে কতটা নীচ এবং হীন রাজনীতি করতে পারে, জঙ্গলমহলবাসী তা আজ হাতেনাতে দেখল।”পাশাপাশি তিনি আগামী নির্বাচনে এই ‘ষড়যন্ত্রকারী’ দলকে উৎখাত করার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে আর্জি জানিয়েছেন।
তবে বিজেপির পক্ষ থেকে অবশ্য এই অভিযোগকে আমল দেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার খাতিরে ‘নো ফ্লাই জোন’ রাখা একটি সাধারণ প্রোটোকল। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। ঝালমুড়ি খাওয়াকে কেন্দ্র করে তৃণমূল সস্তার রাজনীতি করছে বলেই কটাক্ষ গেরুয়া শিবিরের।
সব মিলিয়ে, মোদীর ঝালমুড়ি বিলাস আর হেমন্ত সোরেনের ফিরে যাওয়া— এই দুই মেরুর লড়াইতে ভোটের মুখে সরগরম অরণ্যশহর। জঙ্গলমহলের আদিবাসী ভোটব্যাঙ্কে এর প্রভাব কতটা পড়ে, এখন সেটাই দেখার।