নিজস্ব প্রতিবেদন, বাঁকুড়া:‘টিএমসি জমানার শেষ ঘণ্টা বেজে গিয়েছে।’ জঙ্গলমহলের তপ্ত মাটি থেকে এভাবেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রবিবার বাঁকুড়ার বড়জোড়ায় আয়োজিত এক বিশাল জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, ৪ মে-র পর বাংলার কোনও দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। ২৩ মে ভোটের আগে তাঁদের স্রেফ একটিই পথ খোলা— ‘আত্মসমর্পণ’।
এদিন মোদীর আক্রমণের কেন্দ্রে ছিল মহিলাদের অধিকার। তৃণমূল ও কংগ্রেসের জোটকে নিশানা করে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলার মহিলাদের ক্ষমতায়ন রুখতে দিল্লি ও কলকাতায় একযোগে ষড়যন্ত্র চলছে। প্রধানমন্ত্রীর দাবি, তৃণমূল ও কংগ্রেসের আঁতাঁত ‘নারী সংরক্ষণ বিল’ আটকে দিতে চেয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভয়, বাংলার মেয়েরা বিধানসভা ও সংসদে বেশি সংখ্যায় পৌঁছে তৃণমূলের ‘মহা জঙ্গলরাজ’-কে চ্যালেঞ্জ জানাবে।আদিবাসী রাষ্ট্রপতিকে অপমান করে তৃণমূল বাংলার জনজাতি আবেগে আঘাত হেনেছে।
প্রখর রোদে কয়েক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষায় থাকা ভিড়ের দিকে তাকিয়ে মোদী বলেন, “আপনাদের এই জনরোষ প্রমাণ করছে তৃণমূলের নিষ্ঠুর সরকারের দিন ঘনিয়ে এসেছে। অনুপ্রবেশকারীদের জন্য লাল কার্পেট বিছিয়ে দেওয়া দিদি এখন বাংলার মেয়েদের উন্নয়ন আটকাচ্ছেন।”
বাংলার নারী ভোটারদের মন জয়ে এদিন একগুচ্ছ মেগা-প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর পাল্টা হিসেবে মোদীর অঙ্গীকার, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলার প্রত্যেক মহিলাকে বছরে ৩৬ হাজার টাকা ভাতা দেওয়া হবে। গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ২১ হাজার টাকা এবং সন্তান প্রসবের পর অতিরিক্ত ৫ হাজার টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে দেওয়া হব।একই সঙ্গে বাংলার অন্তত ৭৫ হাজার নারীকে ‘লাখপতি দিদি’ করার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে কেন্দ্র। ‘জিরো বিদ্যুৎ বিল’ ও বাড়ি বাড়ি পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস।“বিজেপির পিএম (PM) এবং সিএম (CM) একসঙ্গে কাজ করলে তবেই বাংলার উন্নয়ন সম্ভব। আর কেউ আপনাদের অধিকার কেড়ে নিতে পারবে না,” বড়জোড়া থেকে হুঙ্কার মোদীর।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর সুর ছিল নজিরবিহীনভাবে চড়া। ৪ মে তারিখটিকে এক প্রকার ‘ডেডলাইন’ হিসেবে ঘোষণা করে তিনি বলেন, “যারা বাংলার মানুষের হক লুট করেছে, তাদের সাজা হবেই। ৪ মে’র পর আপনাদের কেউ বাঁচাতে পারবে না।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, জঙ্গলমহলের এই সভা থেকে মোদী কার্যত বুঝিয়ে দিলেন, আসন্ন নির্বাচনে ‘নারী শক্তি’ এবং ‘দুর্নীতি’—এই দুই তাসেই তৃণমূলের দুর্গে ধস নামাতে চাইছে বিজেপি। বাংলার মহিলারা যে পড়শি রাজ্যের তুলনায় বঞ্চিত হচ্ছেন, সেই আবেগ উস্কে দিয়ে মোদী আজ স্পষ্ট করেছেন, ৪ মে’র ইভিএম হবে তৃণমূলের দুর্নীতির ‘যোগ্য জবাব’।