নিজস্ব সংবাদদাতা: বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়ছে। আর সেই তপ্ত আবহে মেদিনীপুরের মাটি থেকে কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপি-কে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার জনসভা থেকে তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, ইডি-সিবিআই এবং বিপুল অর্থবল ব্যবহার করে দিল্লি থেকে ‘বাংলা দখলের চক্রান্ত’ শুরু হয়েছে। পাল্টা হিসেবে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’ নামে এক অভিনব প্রকল্পের ঘোষণাও করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিন ভাষণের শুরু থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিশানায় ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। নাম না করে তাঁকে ‘মোটা ভাই’ সম্বোধন করে তৃণমূল নেত্রী বলেন, “দিল্লি থেকে মোটা ভাই এসেছে, সঙ্গে ইডি আর সিবিআই। বিজেপি চাইছে ভয় দেখিয়ে বাংলা দখল করতে। কিন্তু মনে রাখবেন, বাংলাকে অত সহজে জেতা যায় না।”
‘ভাতে মারার’ রাজনীতির অভিযোগ
রাজ্যের প্রতি কেন্দ্রের বঞ্চনা নিয়ে এদিন ফের সরব হন মমতা। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার আবাস যোজনার টাকা বন্ধ করে দিয়ে বাংলার মানুষকে ‘ভাতে মারার’ চেষ্টা করছে। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, বিজেপি শুধু আবাস যোজনাই নয়, রাজ্যের জনপ্রিয় ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পও বন্ধ করার ছক কষছে। এর পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ওরা বন্ধ করতে চাইলে আমরা আরও বাড়িয়ে দেব। এবার আমরা করব ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’।”
উন্নয়ন প্রসঙ্গে মমতা জানান, আগামী দিনে কৃষকদের জন্য রাজ্যে আলাদা বাজেট পেশ করা হবে। বাংলায় শিল্পের অভাব নেই দাবি করে তিনি বলেন, “রাজ্যের চারিদিকে শুধু ক্লাস্টার তৈরি হচ্ছে। নাম কেটে বা কেন্দ্রীয় বঞ্চনা করে বাংলার উন্নয়ন আটকানো যাবে না।”
নয়ডা প্রসঙ্গে যোগীকে নিশানা
এদিন ফের একবার উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে কড়া আক্রমণ করেন মমতা। নয়ডায় শ্রমিক বিক্ষোভের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “নয়ডা জ্বলছে। আর এখানে যোগীবাবু এসে বলছেন বাংলায় বুলডোজার চলবে। আমরা বুলডোজার-নীতিতে বিশ্বাস করি না, আমরা ভালোবাসার নীতিতে বিশ্বাস করি।”
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ন্যূনতম বেতন বৃদ্ধির দাবিতে নয়ডায় প্রায় ৪০ হাজার শ্রমিক পথে নামেন। সেই বিক্ষোভ এক সময় হিংসাত্মক রূপ নেয়, যা নিয়ে বর্তমানে উত্তপ্ত উত্তরপ্রদেশের রাজনীতি। যোগী সরকারকে বিঁধতে সেই অস্ত্রকেই এদিন হাতিয়ার করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
বাঙালির ভাবাবেগ ও ডিলিমিটেশন
বাঙালির ভাবাবেগ উসকে দিয়ে মমতার অভিযোগ, “বাংলায় কথা বললেই ওরা বলছে বাংলাদেশি। ডিলিমিটেশন বিল এনে বাংলাকে টুকরো টুকরো করার ষড়যন্ত্র চলছে।” একইসঙ্গে তাঁর দাবি, নির্বাচনের আগে বিজেপি রাজ্যে ‘কালো টাকা’ বিলি করে ভোট কেনার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, পিংলার সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে যেমন কেন্দ্রের ‘বঞ্চনা’ ও ‘তদন্তকারী সংস্থা’র রাজনীতির বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন, তেমনই ‘দুয়ারে স্বাস্থ্য’র মতো জনমুখী প্রকল্পের ঘোষণা করে মাস্টারস্ট্রোক দিলেন ভোটের ময়দানে।