দীপু দাস হত্যার প্রতিবাদে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ, ভারত–বাংলাদেশ কূটনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি

সঙ্কেত ডেস্ক: বাংলাদেশি হিন্দু যুবক দীপু দাসের নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ দেখায় বজরং দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের সদস্যরা। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের বসানো ব্যারিকেড ভেঙে হাইকমিশনের খুব কাছে পৌঁছে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে।

বিক্ষোভ চলাকালীন একাধিক আন্দোলনকারীকে ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড হাতে দীপু দাসের বিচারের দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ সময় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান মুহাম্মদ ইউনুসের কুশপুত্তলিকাও পোড়ানো হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ বেশ কয়েকজনকে আটক করে এবং পরে ব্যারিকেডিং পুনঃস্থাপন করে।

এই ঘটনার জেরে ভারত–বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ দিল্লিতে অবস্থিত তাদের ভিসা কেন্দ্র অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি সাময়িকভাবে সব ধরনের কনস্যুলার পরিষেবা স্থগিত করার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২২ ডিসেম্বর দিল্লি, শিলিগুড়ি ও আগরতলায় ভিসা ও অন্যান্য কনস্যুলার পরিষেবা বন্ধ রাখার কথা জানায় বাংলাদেশের হাইকমিশন। ভিসা কেন্দ্রগুলির সামনে বিক্ষোভের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, মঙ্গলবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় বর্মাকে তলব করে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রণালয়। বিদেশ মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকটি পাঁচ মিনিটেরও কম সময় স্থায়ী হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রণয় বর্মা মন্ত্রণালয়ের অফিসে প্রবেশ করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই বেরিয়ে আসেন। সূত্রের খবর, বৈঠকে বাংলাদেশের বিদেশ সচিব আসাদ আলম সিয়াম ভারতের কাছে ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশি কূটনৈতিক মিশনগুলির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান।

রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশের তরফ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে ভারতে অবস্থিত তাদের মিশনগুলিতে ‘হামলার চেষ্টা’ করা হয়েছিল এবং তা পূর্বপরিকল্পিত ছিল।

এছাড়াও কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনের সামনেও দীপু দাসের হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়। সেখানে মুহাম্মদ ইউনুসের ছবিতে জুতোর মালা পরানো হয় এবং বাংলাদেশবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়।

উদ্ভূত পরিস্থিতির উপর দুই দেশের প্রশাসনই কড়া নজর রাখছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *