নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য বড়সড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। লোকসভা ভোটের রেশ কাটতে না কাটতেই কর্মহীন তরুণ-তরুণীদের আর্থিক মনোবল জোগাতে এক নয়া প্রকল্পের সূচনা হতে চলেছে। আগামী ১ জুন থেকেই রাজ্যে শুরু হচ্ছে ‘যুব শক্তি ভরসা কার্ড’ যোজনার অধীনে আর্থিক সহায়তা প্রদান পর্ব। এই প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের যোগ্য বেকার যুবকেরা সরাসরি তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে পাবেন। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার বা ডিবিটি ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনো মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি এই টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।

রাজ্যের নবগঠিত বিজেপি সরকারের আনা এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য হলো, যে সমস্ত বেকার তরুণ-তরুণী চাকরির পরীক্ষা এবং বিভিন্ন ইন্টারভিউয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তাঁদের পাশে দাঁড়ানো। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলের ১,৫০০ টাকার বেকার ভাতাকে একধাক্কায় দ্বিগুণ বাড়িয়ে বর্তমান সরকার প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। নবান্ন সূত্রে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, চাকরিপ্রার্থীরা যতদিন না কোনো স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন, ততদিন তাঁদের আর্থিক সহযোগিতা করতে এই উদ্যোগ কার্যকর থাকবে। তবে পুরো প্রক্রিয়াটিতে যাতে কোনো স্বচ্ছতার অভাব বা প্রযুক্তিগত ত্রুটি না থাকে এবং কোনো ভুয়ো আবেদনকারী যাতে জালিয়াতি করে সুবিধা না নিতে পারে, তার জন্য কঠোর ভেরিফিকেশন বা স্ক্রুটিনির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সরকার নিশ্চিত করতে চায় যে, কোনো যোগ্য ও প্রকৃত প্রার্থী যেন এই সরকারি সুবিধা থেকে কোনোভাবেই বঞ্চিত না হন।

এই জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের সুবিধা পেতে গেলে আবেদনকারীকে নির্দিষ্ট কিছু সরকারি মানদণ্ড পূরণ করতে হবে। প্রশাসনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং তাঁর বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে। শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ হওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি উপভোক্তার নিজস্ব একটি সচল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে, যা বাধ্যতামূলকভাবে আধারের সাথে লিঙ্ক করা আছে।

নবান্ন সূত্রে খবর, আবেদনের সময় আবেদনকারীদের নির্দিষ্ট কিছু বৈধ নথিপত্র সঙ্গে রাখতে হবে। যার মধ্যে রয়েছে ভোটার আইডি কার্ড, আধার কার্ড, বয়সের প্রমাণপত্র হিসেবে বার্থ সার্টিফিকেট বা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট ও মার্কশিট, সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি এবং একটি সচল মোবাইল নম্বর।

রাজ্য মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে একটি নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টাল চালুর অনুমোদন দিয়েছে। নতুন আবেদনকারীরা এই পোর্টালে গিয়ে সহজেই নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। এর পাশাপাশি একটি বড় স্বস্তির খবরও দিয়েছে নবান্ন। জানানো হয়েছে, যাঁরা আগে থেকেই এই ধরনের বেকার ভাতার সুবিধা পাচ্ছিলেন, তাঁরাও স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই নতুন তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন। তাঁদের নতুন করে আবেদন করতে হবে না। আগামী ১ জুন থেকেই এই বর্ধিত ৩,০০০ টাকা উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে শুরু করবে বলে সরকারের তরফে নিশ্চিত করা হয়েছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *