নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ঠিক ৭৬ দিন। পরীক্ষা শেষের রেশ কাটতে না কাটতেই সাফল্যের উপাখ্যান নিয়ে হাজির উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। বৃহস্পতিবার সকালে যখন ফল ঘোষণা হলো, দেখা গেল সাফল্যের মুকুটে উজ্জ্বল হয়ে জ্বলছে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশনের নাম। ৫০০-র মধ্যে ৪৯৬ নম্বর পেয়ে সম্ভাব্য প্রথম স্থানের শিরোপা ছিনিয়ে নিয়েছেন মিশনের ছাত্র আদৃত পাল। তাঁর এই ‘অভাবনীয়’ নম্বর মিশনের শতাব্দীপ্রাচীন ঐতিহ্যে আরও এক নয়া পালক। এবারের মেধা তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন মোট ৬৪ জন। তবে তালিকার ‘লিঙ্গ বৈষম্য’ নিয়ে শিক্ষামহলে শুরু হয়েছে চর্চা। প্রথম দশের তালিকায় ছাত্রদের দাপট এবার চোখে পড়ার মতো। প্রথম দশের মধ্যে মাত্র ৮ জন ছাত্রী স্থান পেলেও মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যার বিচারে কিন্তু জয়জয়কার হয়েছে ছাত্রীদেরই। ছাত্রদের তুলনায় ৬৬,৬২৩ জন বেশি ছাত্রী এবার পরীক্ষায় বসেছিলেন। সংখ্যাতত্ত্বের এই লড়াইয়ে ছাত্ররা মেধায় বাজিমাত করলেও, শিক্ষার প্রসারে ছাত্রীদের এই বিপুল অংশগ্রহণকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছে শিক্ষা সংসদ। এবারের ফলাফলে এক পশলা স্বস্তির বাতাসের নাম ‘তৃতীয় লিঙ্গ’। সংসদের তরফে জানানো হয়েছে, এই বিভাগের পরীক্ষার্থীরাও সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। উচ্চ মাধ্যমিকের ইতিহাসে যা কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং সামাজিক অন্তর্ভুক্তির পথে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক। ১২ ফেব্রুয়ারি শুরু হয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়েছিল পরীক্ষা। সংসদ সূত্রে খবর, মার্কশিটের জন্য এবার আর দীর্ঘ প্রতীক্ষা করতে হবে না পড়ুয়াদের। স্কুলগুলিকে কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, আজই যাতে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে মার্কশিটের হার্ডকপি, শংসাপত্র ও রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হয়। সকাল থেকেই সংসদের নির্দিষ্ট পোর্টালে ভিড় জমিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা, নিজেদের পরিশ্রমের ফল চোখে দেখতে। এবারের উচ্চ মাধ্যমিকের এই দ্রুত ফল প্রকাশ কি ভবিষ্যতে শিক্ষা ক্ষেত্রে এক নতুন গতির ইঙ্গিত? প্রশ্নটা তোলা রইল। তবে আজ আনন্দ আর উত্তেজনার পারদ যে চড়ছেই, নরেন্দ্রপুর থেকে পাড়ার মোড়ের ইস্কুল— ছবিটা সর্বত্রই এক। Share Post Whatsapp Share Post navigation জেইই মেইনস ২০২৬-এ রাজ্যসেরা কুন্তলকে সংবর্ধনা অধ্যয়ন ইনস্টিটিউটের ইস্পাত নগরীর মুকুটে নয়া পালক, নবম হয়ে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর অভিমন্যু