নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: আসন্ন নির্বাচনকে পাখির চোখ করে শিল্পাঞ্চলে সুর চড়ালেন সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। রবিবার দুর্গাপুরের গান্ধী মোড় ময়দানে দুর্গাপুর পূর্ব ও পশ্চিম সিপিআইএম প্রার্থীর সমর্থনে সমাবেশ। উপস্থিত মোহম্মদ সেলিম বিজেপি ও তৃণমূল— উভয় পক্ষকেই তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। বিশেষত, বিজেপির সাম্প্রতিক ‘শ্বেতপত্র’ এবং ভাতার প্রতিশ্রুতিকে ‘ভোটের আগে গিমিক’ বলে কটাক্ষ করেছেন বাম নেতা।
ভোটার তালিকা বনাম ভোটের গণনা
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে সেলিম অভিযোগ করেন, বিজেপি এখন ভোটার তালিকা সংশোধন বা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার চেয়ে ভোটের ‘গণনা’ বা কারচুপির দিকেই বেশি মনোযোগী। তাঁর দাবি, গত ৪০ বছর ধরে আরএসএস এবং বিজেপি অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে যে প্রচার চালাচ্ছে, তা আদতে ‘মিথ্যাচার’। সেলিমের প্রশ্ন, “বিজেপি এত বছর ধরে দাবি করছে, কিন্তু কতজন অনুপ্রবেশকারীকে শেষ পর্যন্ত ধরা হয়েছে? আসলে নামের বানানে ভুল থাকলে আদিবাসী, মতুয়া বা ভূমিপুত্রদের নাম ভোটার তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলার রাজনীতি চলছে।”
কর্মসংস্থান ও ভাতার রাজনীতি
বিজেপির দেওয়া ৩,০০০ টাকা বেকার ভাতার প্রতিশ্রুতিকে নজিরবিহীন আক্রমণ করেন সেলিম। তিনি বলেন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে ক’জনকে ভাতা দেওয়া হয়েছে? আর মোদী-মমতা দুজনেই তো প্রতি বছর কোটি কোটি চাকরির কথা বলেছিলেন। এখন দেখা যাচ্ছে সেই নিয়োগপত্রও জাল।” তাঁর মতে, বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে আদতে কোনও ফারাক নেই, দুজনেই মানুষকে কেবল মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে আসছে।
রাজনীতিতে ‘জঞ্জাল’ প্রসঙ্গ
তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া বা নেতাদের দলবদল প্রসঙ্গেও নিজস্ব ভঙ্গিতে জবাব দেন সেলিম। তাঁর কথায়, “রাজনীতিতে জঞ্জাল আর ভালো লোক দুই-ই থাকে। বিয়েবাড়িতে ভালো খাবারের পাশাপাশি যেমন ভ্যাটে নোংরা আবর্জনা থাকে, রাজনীতির ক্ষেত্রেও তাই। মানুষ মেনু কার্ড দেখে খাবার বাছেন, নাকি জঞ্জালের দিকে তাকান— সেটাই বড় কথা।”
পরিশেষে সিপিআইএম নেতৃত্বের দাবি, বাংলার মানুষ এবার বিকল্পের সন্ধানে। তৃণমূলকে নবান্ন থেকে সরানো এবং বিজেপিকে বাংলা থেকে বিতাড়িত করাই তাঁদের লক্ষ্য। ভোটারদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “বামপন্থীদের জয়ী করুন, আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী।” শিল্পাঞ্চলে বামেদের এই ঝোড়ো ব্যাটিং আগামীর রাজনৈতিক লড়াইকে যে আরও কঠিন করে তুলল, তা বলাই বাহুল্য।