নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: বিধানসভা ভোটের পারদ চড়তেই শিল্পাঞ্চলের রাজপথে আছড়ে পড়ল বামেদের বিক্ষোভ। ভোটার তালিকায় ‘গরিব মানুষের নাম বাদ’ দেওয়ার অভিযোগে সোমবার সকালে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল দুর্গাপুরের ভগৎ সিং ক্রীড়াঙ্গন চত্বর। অবরোধ, স্লোগান আর পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে স্তব্ধ হয়ে গেল গুরুত্বপূর্ণ রাস্ত।
এদিন আন্দোলনের সামনের সারিতে ছিলেন জামুড়িয়ার সিপিএম প্রার্থী তথা ছাত্রনেত্রী ঐশী ঘোষ। তাঁর নেতৃত্বেই ভগৎ সিং ক্রীড়াঙ্গনের সামনের রাস্তা আটকে বিক্ষোভ শুরু করেন সিপিএম কর্মী-সমর্থকরা। আধ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা এই অবরোধের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে যান চলাচল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দুর্গাপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।
বিক্ষোভের আঁচ থেকে রেহাই পায়নি নির্বাচন কমিশনও। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের ‘মদতে’ কাজ করছে কমিশন। বৈধ নাগরিকদের নাম তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলে তাঁদের বিপাকে ফেলা হচ্ছে বলে সরব হন বাম কর্মীরা।
বিক্ষোভের মাঝেই কড়া ভাষায় আক্রমণ শানান ঐশী ঘোষ। তাঁর অভিযোগ “দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো ভেঙে ফেলছে কেন্দ্রীয় সরকার। রাজ্যের ৬০ লক্ষ মানুষের নাম এখন বিচারাধীন। এই মানুষগুলো কোথায় যাবে? মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন একজনের নামও বাদ দিতে দেবেন না, অথচ তিনি এখন হেলিকপ্টারে চড়ে প্রচার সারছেন। কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।”
পরে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর হস্তক্ষেপে বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় অবরোধ ওঠে। তবে এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে ভোটের মুখে যে দুর্গাপুরের রাজনৈতিক আবহ আরও তপ্ত হল, তা বলাই বাহুল্য। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার এই ‘ইস্যু’কে হাতিয়ার করে বামেরা যে আমজনতার ক্ষোভ উসকে দিতে চাইছে, এদিন ঐশীর নেতৃত্বাধীন এই বিক্ষোভ তারই ইঙ্গিত দিল।
ভোটের আগে এই ভোটার তালিকা সংক্রান্ত জটিলতা ব্যালট বক্সে কোনো প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।