নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে বড়সড় চাঞ্চল্য। কয়লা পাচার মামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থা ‘ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’ (I-PAC)-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও ডিরেক্টর বিনেশ চান্ডেলকে গ্রেফতার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সোমবার রাতে দিল্লিতে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর পিএমএলএ (PMLA) আইনে তাঁকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার তাঁকে দিল্লির পাতিয়ালা হাউস আদালতে পেশ করা হলে বিচারক শেফালি বর্নালা ট্যান্ডন বিনেশকে ১০ দিনের ইডি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
সূত্রের খবর, সোমবার রাতেই দিল্লি থেকে বিনেশকে গ্রেফতার করা হয়। মূলত কয়লা পাচারের প্রায় ৫০ কোটি টাকা হাওলার মাধ্যমে আই-প্যাকের অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে— এই সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ। কেন্দ্রীয় সংস্থার দাবি, কয়লা পাচারের টাকা ‘ইন্ডিয়ান প্যাক কনসাল্টিং প্রাইভেট লিমিটেড’-এর অ্যাকাউন্টে পাঠানোর জন্য এক হাওলা অপারেটরকে ব্যবহার করা হয়েছিল।
তদন্তের জাল ও চিরুনি তল্লাশি
গত ২ এপ্রিল দেশজুড়ে চিরুনি তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। বিনেশ চান্ডেলের দিল্লি আবাসন ছাড়াও তল্লাশি চলেছিল,আই-প্যাকের অন্যতম সহ-প্রতিষ্ঠাতা ঋষিরাজ সিংয়ের বেঙ্গালুরুর ডেরায়। আম আদমি পার্টির (AAP) প্রাক্তন যোগাযোগ প্রধান বিজয় নায়ারের মুম্বইয়ের বাড়িতে।
উল্লেখ্য, গত ৮ জানুয়ারি আই-প্যাকের কলকাতা অফিসে হানা দিয়েছিল ইডি, যা নিয়ে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায়। ওই দিন ইডি তল্লাশি চলাকালীন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন। ইডির অভিযোগ, রাজ্য প্রশাসনের সহায়তায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস সরিয়ে ফেলা হয়েছিল। তদন্তে সরাসরি বাধা দেওয়ার অভিযোগে ইতিমধ্যেই সিবিআই তদন্ত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে ইডি।
রাজনৈতিক চাপানউতোর
ভোটের ঠিক ১০ দিন আগে এই গ্রেফতারি নিয়ে সরব হয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যমে তিনি তোপ দেগে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি এই ‘নোংরা খেলা’ খেলছে এবং নির্বাচনের ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, ইডির দাবি অনুযায়ী, ২০২০ সালের নভেম্বরে সিবিআই ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেডের (ECL) কুনুস্তোরিয়া ও কাজোরা এলাকা থেকে কয়লা চুরির যে এফআইআর দায়ের করেছিল, তার সঙ্গেই জড়িয়েছে আই-প্যাকের নাম। সংস্থার ৩৩ শতাংশ শেয়ার হোল্ডার বিনেশ চান্ডেলের গ্রেফতারি এখন আই-প্যাকের অন্দরে বড় অস্বস্তি তৈরি করল।
ভোট ব্যবস্থাপনায় প্রভাব?
আগামী ২৩ ও ২৯ এপ্রিল রাজ্যে দুই দফায় ভোটগ্রহণ। ২০২১ সাল থেকে তৃণমূলের ছায়াসঙ্গী হিসেবে কাজ করছে আই-প্যাক। ভোটের ঠিক কয়েক সপ্তাহ আগে সংস্থার শীর্ষকর্তার গ্রেফতারি শাসক শিবিরের ভোট ব্যবস্থাপনায় কোনো প্রভাব ফেলে কি না, এখন সেটাই দেখার। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই ঘটনায় আই-প্যাকের কৌশলী ও ডেটা ম্যানেজমেন্টের কাজে বড়সড় বিঘ্ন ঘটতে পারে।