নিজস্ব সংবাদদাতা,দূর্গাপুর: তপ্ত রোদকেও হার মানাল ভোটের মেজাজ। ভোটের নির্ঘন্ট বাজতেই জনসংযোগে নেমেছিলেন বিজেপি বিধায়ক লক্ষণ ঘড়ুই। লক্ষ্য ছিল ঘরে ঘরে পৌঁছে নিজের ‘রিপোর্ট কার্ড’ পেশ করা। কিন্তু কাজের হিসেব চাইতে গিয়ে খোদ ভোটারদের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হল বিদায়ী বিধায়ককে। বুধবার মায়াবাজার এলাকায় বিজেপি বিধায়কের প্রচারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়াল। এলাকায় পা রাখতেই একদল যুবকের তপ্ত প্রশ্নের মুখে পড়তে হল তাঁকে। পরিস্থিতি এমনই পর্যায়ে পৌঁছায় যে, মুহূর্তের মধ্যে প্রচার কর্মসূচি রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়।
বিজেপি বিধায়ক তাঁর দলীয় কর্মীদের নিয়ে যখন এলাকায় ঢুকছেন, তখনই একদল স্থানীয় যুবক তাঁকে ঘিরে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, গত পাঁচ বছরে এলাকায় তাঁকে দেখা যায়নি। এক যুবককে চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, “পাঁচ বছর আপনি কোথায় ছিলেন? এখন ভোট সামনে আসতেই দেখা দিচ্ছেন!” শুধু তাই নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের একাধিক নীতির বিরুদ্ধেও সরব হন প্রতিবাদীরা। তাঁদের দাবি, বেকারত্ব থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের মূল্যবৃদ্ধি— সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠলেও বিধায়ককে পাশে পাওয়া যায়নি।
পাল্টা মেজাজ হারান বিজেপি কর্মীরাও। গেরুয়া শিবিরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, এর পেছনে তৃণমূলের প্রচ্ছন্ন মদত রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে বিধায়কের প্রচার বানচাল করতেই এই ‘গো ব্যাক’ ‘জয়বাংলা স্লোগান’ এবং বিক্ষোভ। বচসা থেকে হাতাহাতির উপক্রম হতেই আসরে নামে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে বিধায়ককে এলাকা থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।
যদিও এই ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের কথায়, “গণতন্ত্রে মানুষ প্রশ্ন করতেই পারেন, কিন্তু এটা সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ নয়, বরং বিরোধীদের সাজানো নাটক।” অন্যদিকে, স্থানীয়দের একাংশের দাবি, উন্নয়নের বদলে কেবল আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতিতেই দিন কাটছে তাঁদের, তাই এই প্রতিবাদ।
ভোটের আগে এই ‘জনরোষ’ পদ্ম শিবিরের কাছে যথেষ্ট উদ্বেগের বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। একদিকে যেমন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের চাপ, অন্যদিকে খোদ নিজের নির্বাচনী ক্ষেত্রে এই ‘অপ্রস্তুত’ পরিস্থিতি— দুইয়ের যাঁতাকলে এখন গেরুয়া শিবির। শেষ পর্যন্ত এই ক্ষোভের আঁচ ব্যালট বক্সে পড়ে কি না, সেটাই এখন দেখার।