নিজস্ব প্রতিনিধি,দূর্গাপুর: মিশন ২০২৬। আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করে এখন থেকেই ঘর গোছাতে মরিয়া পদ্ম শিবির। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি এবার রাঢ়বঙ্গের ক্ষয়ে যাওয়া সাংগঠনিক জমিতে প্রলেপ দিতে ময়দানে নামলেন খোদ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। বুধবার দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের একটি বেসরকারি হোটেলে বীরভূম, আসানসোল ও বর্ধমান শিল্পাঞ্চলের চার সাংগঠনিক জেলার শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে দীর্ঘ বৈঠক করলেন কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব।
বিজেপি সূত্রের খবর, গত কয়েকটি নির্বাচনে রাঢ়বঙ্গের বেশ কিছু পকেটে দলের রক্তক্ষরণ ভাবিয়ে তুলেছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে। বিশেষ করে বুথ স্তরের সাংগঠনিক শিথিলতা কাটাতে এবং জেলা সভাপতিদের আগামীর রূপরেখা বাতলে দিতেই এই ঝটিকা বৈঠক। এদিন বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বীরভূম ও বোলপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতিরা। এছাড়াও ছিলেন আসানসোলের দেবতনু ভট্টাচার্য এবং বর্ধমান জেলার অভিজিৎ তা।
বৈঠক শেষে আত্মবিশ্বাসের সুরে তৃণমূলকে বিঁধতে ছাড়েননি বিষ্ণুপুরের বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “রাঢ়বঙ্গের ছোট ছোট জেলাগুলির সাংগঠনিক খুঁটিনাটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। আগামী নির্বাচনে রাঢ়বঙ্গের ৫৬টি আসনে তৃণমূলকে খুঁজতে দূরবীন লাগবে।”
নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়েও এদিন চক্রান্তের অভিযোগ তুলেছেন সৌমিত্র। তাঁর দাবি, বেছে বেছে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। সৌমিত্রর কথায়, “মৃত ভোটারদের নাম তো বাদ গেছেই, কিন্তু বহু সাধারণ মানুষের নামও তালিকা থেকে উধাও। খোদ মুখ্যমন্ত্রী কী করে জানলেন যে এক কোটি মানুষের নাম বাদ যাবে? এটা আসলে একটা গভীর চক্রান্ত।” যে সমস্ত সাধারণ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে দ্রুত অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা ভোটের আগে এই বৈঠক কেবল সাংগঠনিক রদবদল নয়, বরং কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যে বাংলার মাটি ছাড়তে নারাজ— সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিল।