নিজস্ব প্রতিনিধি: রাজ্যে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবার অন্তর্বর্তীকালীন কল্যাণমূলক প্রকল্পগুলির খোলনলচে বদলে ফেলতে বড়সড় পদক্ষেপ করল নবগঠিত ডাবল ইঞ্জিন সরকার। বিপুল জনপ্রিয় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পটিকে আপগ্রেড করে এবার ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ করার কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে রাজ্যের ‘স্বাস্থ্য সাথী’ প্রকল্পটিকেও কেন্দ্রীয় প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর আওতাভুক্ত করার কাজ শুরু হয়ে গেছে। মঙ্গলবার কল্যাণীতে তিন জেলার শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে এক ম্যারাথন প্রশাসনিক বৈঠকের পর এই মেগা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।মুখ্যমন্ত্রী জানান, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা পেতে উপভোক্তাদের একটি নতুন ফর্ম পূরণ করতে হবে। বুধবার বিকালের মধ্যেই নবান্ন থেকে এই ফর্মটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় তাঁর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দফতরের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও উপস্থিত থাকবেন।
প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,”বুধবারই ফর্মটি জনসমক্ষে আনা হবে এবং আগামীকাল থেকেই গোটা রাজ্যে এনরোলমেন্ট বা নাম নথিভুক্তকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। উপভোক্তারা যত দ্রুত এই ফর্ম ফিলাপ করে জমা দেবেন, তত তাড়াতাড়ি তাঁদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থা করবে প্রশাসন।”নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মহিলাদের মনে একটা বড় আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভবিষ্যৎ নিয়ে। সেই আশঙ্কায় জল ঢেলে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, আগামী ১ জুন থেকেই এই প্রকল্পের টাকা দেওয়া শুরু হবে। অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার চালু হলে উপভোক্তারা মাসে সরাসরি ৩ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, এই রূপান্তরের সময়কালীন পর্বে যাতে মা-বোনেদের কোনো আর্থিক সমস্যায় পড়তে না হয়, তার জন্য প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছে। যতদিন না অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের ৩ হাজার টাকার প্রথম কিস্তির ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) সফলভাবে চালু হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে পুরনো লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিয়ম মেনেই ঢুকতে থাকবে। অর্থাৎ, নতুন প্রকল্পের টাকা চালু না হওয়া পর্যন্ত পুরনো ভাতা বন্ধ হচ্ছে না। ইতিমধ্যে রাজ্যের বিভিন্ন ব্যাঙ্কে ডিবিটি লিঙ্ক করানোর জন্য উপভোক্তাদের ভিড় উপচে পড়ছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, যাঁরা ইতিমধ্যেই লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছিলেন, তাঁরা প্রত্যেকেই সরাসরি এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের সুবিধা পাবেন। তবে যাদের নাম কোনো কারণে আগে বাদ গিয়েছিল বা নতুন করে আবেদন করতে চান, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন ভোটার তালিকার (Electoral Roll) ভিত্তিতে কঠোরভাবে স্ক্রুটিনি বা যাচাইকরণ করা হবে। পাশাপাশি, যেসব উপভোক্তার নাম বা নথির বিষয় বর্তমানে কোনো ট্রাইব্যুনালের অধীনে আটকে রয়েছে, মানবিকতার খাতিরে সরকার আপাতত তাঁদেরও এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
কেবলমাত্র জনকল্যাণমূলক প্রকল্পই নয়, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং অপরাধ দমনেও এদিন এক নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিতে দেখা যায় মুখ্যমন্ত্রীকে। কল্যাণী থেকে শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট ঘোষণা করেন যে, আজ থেকে সমগ্র পশ্চিমবঙ্গে আর কোনো রকম বেআইনি চোলাই মদ এবং অনলাইন লটারির কারবার চলতে দেওয়া হবে না। রাজ্যে এই সমস্ত বেআইনি সিন্ডিকেট সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *