নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: একের পর এক সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতে এবার বাধ্যতামূলক করা হলো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার সংযুক্তিকরণ বা আধার সিডিং। রাজ্য ও কেন্দ্রের একাধিক জনকল্যাণমূলক স্কিম, বিশেষ করে অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনার মাসিক ৩,০০০ টাকা সরাসরি নিজের অ্যাকাউন্টে পেতে হলে গ্রাহকদের অবিলম্বে সম্পূর্ণ করতে হবে ডিবিটি অ্যাক্টিভেশন এবং এনপিসিআই ম্যাপিং। প্রশাসন সূত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আধার সিডিং এবং এনপিসিআই সচল না থাকলে আগামী দিনে অ্যাকাউন্টে সরকারি অনুদানের টাকা ঢুকতে বড়সড় সমস্যা হতে পারে। তবে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে এই প্রক্রিয়াটি অনলাইন এবং অফলাইন— দুই মাধ্যমেই সম্পন্ন করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

যাঁরা সরাসরি ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে অফলাইন পদ্ধতিতে এই কাজ করতে চান, তাঁদের প্রথমেই নিজের নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক শাখায় যোগাযোগ করতে হবে। সেখান থেকে আধার সিডিং বা ডিবিটি অ্যাক্টিভেশনের নির্দিষ্ট আবেদনপত্রটি সংগ্রহ করতে হবে। এরপর ফর্মে নিজের আধার নম্বর এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সমস্ত তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করা আবশ্যক। ফর্ম পূরণের পর তার সাথে আধার কার্ডের একটি স্ব-প্রত্যয়িত বা সেলফ-অ্যাটেস্টেড ফোটোকপি জমা দিতে হবে। গ্রাহকের দেওয়া সমস্ত তথ্য যাচাই করে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ লিঙ্ক করার প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করবে।

অন্যদিকে ঘরে বসে অনলাইন মাধ্যমে এই কাজ করতে চাইলে গ্রাহককে নিজের ব্যাঙ্কের নেট ব্যাঙ্কিং পোর্টাল অথবা মোবাইল ব্যাঙ্কিং অ্যাপে লগ-ইন করতে হবে। সেখান থেকে মেনু অপশনে গিয়ে ‘সার্ভিসেস’ বা ‘আধার লিঙ্কিং’ বিকল্পটি বেছে নিতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট স্থানে নিজের ১২ অঙ্কের আধার নম্বরটি সাবধানে টাইপ করতে হবে। প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করতে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বরে একটি ওটিপি আসবে, যা দিয়ে তথ্যটি যাচাই করে সাবমিট করলেই অনলাইন আবেদন সম্পন্ন হবে।

নিজের অ্যাকাউন্টে ডিবিটি সচল আছে কি না, তা বোঝার জন্য গ্রাহকেরা আধারের অফিসিয়াল পোর্টাল ব্যবহার করতে পারেন। এর জন্য প্রথমে ইউআইডিএআই-এর অফিসিয়াল পোর্টালে যেতে হবে এবং আধার নম্বর ও ওটিপি ব্যবহার করে লগ-ইন করতে হবে। লগ-ইন করার পর ‘আধার-ব্যাঙ্ক সিডিং স্ট্যাটাস’ বিভাগে গেলেই পরিষ্কার দেখা যাবে কোন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সাথে ডিবিটি বর্তমানে যুক্ত রয়েছে। এছাড়াও নেট ব্যাঙ্কিং, ব্যাঙ্কের কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে কিংবা সরাসরি শাখায় গিয়েও এই স্ট্যাটাস জানা সম্ভব।

অনেক সময় দেখা যায় গ্রাহক একটি নির্দিষ্ট ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে সরকারি টাকা পেতে চান, কিন্তু তাঁর আধার অন্য কোনো ব্যাঙ্কের সাথে লিঙ্ক হয়ে আছে। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে পেতে চান, কিন্তু তাঁর আধার ডিবিটি-র জন্য আইসিআইসিআই ব্যাঙ্কের সাথে লিঙ্ক হয়ে থাকে, তবে তাঁকে পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টটিকে প্রাথমিক ডিবিটি অ্যাকাউন্ট হিসেবে ম্যাপ করতে হবে। এর জন্য প্রথমে এনপিসিআই-এর মূল ওয়েবসাইটে যেতে হবে। সেখান থেকে কাস্টমার ট্যাব অবলিক ভারত আধার সিডিং এনাবলার অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর বাঁদিকের প্যানেল থেকে রিকোয়েস্ট ফর আধার সিডিং অথবা ডিলিস্টিং বিকল্পটি বেছে নিতে হবে। সেখানে নিজের আধার নম্বর দিয়ে যে ব্যাঙ্কে সরকারি টাকা পেতে চান, সেই ব্যাঙ্কের নাম ড্রপডাউন মেনু থেকে সিলেক্ট করতে হবে। যদি একই ব্যাঙ্কের অন্য অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক করতে হয়, তবে মুভমেন্ট সেম ব্যাঙ্ক উইথ অ্যানাদার অ্যাকাউন্ট বাছতে হবে। আর যদি ব্যাঙ্ক পরিবর্তন করতে হয়, তবে মুভমেন্ট ফ্রম ওয়ান ব্যাঙ্ক টু আদার ব্যাঙ্ক বিকল্পটি বেছে নিতে হবে। এরপর নতুন অ্যাকাউন্ট নম্বরটি দু’বার টাইপ করে মোবাইলে আসা ওটিপি এবং সিকিউরিটি ক্যাপচা পূরণ করে ফর্মটি সাবমিট করলেই কাজ সম্পন্ন হবে।

প্রশাসনের তরফে এই বিষয়ে কিছু জরুরি সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। আধার কার্ডের তথ্যের সাথে ব্যাঙ্কের নথির নাম ও বানানের মিল থাকা বাধ্যতামূলক, অন্যথায় আবেদন বাতিল হতে পারে। পাশাপাশি যে মোবাইল নম্বরটি আধারের সাথে যুক্ত, সেটি যেন অবশ্যই সচল থাকে। একই সাথে মনে রাখতে হবে, নতুন অ্যাকাউন্টে সরকারি টাকা ঢুকতে শুরু না করা পর্যন্ত পুরনো অ্যাকাউন্টটি কোনোভাবেই বন্ধ করা যাবে না।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *