সঙ্কেত ডেস্ক: ভোটের মুখে ফের রণংদেহি মেজাজে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ির সভা থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি দাবি করেন, চক্রান্ত করে এবং মিথ্যে মামলা সাজিয়ে ভবানীপুর কেন্দ্রে তাঁর প্রার্থীপদ বাতিলের চেষ্টা করেছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু সাধারণ মানুষের তৎপরতায় সেই ছক ভেস্তে গিয়েছে। একই সঙ্গে তাঁর সাফ ঘোষণা, “কে প্রার্থী তা ভুলে যান। মনে রাখবেন ২৯৪টি কেন্দ্রেই প্রার্থী আমি। সরকারটা আমিই গড়ব।”
ভোটের মাঝেই আসন পুনর্বিন্যাসের ‘চক্রান্ত’
এদিন মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিজেপি পরিকল্পনা করে আসন পুনর্বিন্যাস বিল এনেছে যাতে তিনি ভোটে দাঁড়াতে না পারেন। তাঁর কথায়, “ভোটের মাঝেই এই বিল আনা কত বড় অন্যায় ভাবুন! আমি যাতে লড়তে না পারি, তার জন্যই এই চক্রান্ত।” ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়েও সরব হন তিনি। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, রাজ্যে পরিকল্পিতভাবে ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে ৬০ লক্ষ হিন্দু এবং ৩০ লক্ষ মুসলিম। এই প্রক্রিয়ার জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ২৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলেও চাঞ্চল্যকর দাবি করেন তিনি।
বাঙালির খাদ্যাভ্যাসে হস্তক্ষেপের অভিযোগ
বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাঙালিদের সংস্কৃতির ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে বলে তোপ দাগেন মমতা। তিনি বলেন, “বিজেপি শাসিত রাজ্যে মাছ, মাংস, ডিম খাওয়া বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে বাংলায় কথা বললেও অত্যাচার করা হচ্ছে। আমরা বাংলায় কথা বলি বলে কি আমরা ভারতীয় নই?” কেন্দ্রকে নিশানা করে তাঁর প্রশ্ন, কেন বারবার নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হবে? গণতান্ত্রিকভাবে জেতার ক্ষমতা নেই বলেই বিজেপি ইভিএম কারচুপি ও ভোটার তালিকা ছাঁটাইয়ের পথ বেছে নিয়েছে বলে তাঁর অভিযোগ।
ইউসিসি ও কেন্দ্রের বিরোধিতায় অনড়
অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউসিসি (UCC) নিয়ে তাঁর অবস্থান স্পষ্ট করে মমতা জানান, এর মাধ্যমে অনগ্রসর শ্রেণির অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। বাংলায় কোনোভাবেই তা কার্যকর হতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি গ্যাসের দাম বৃদ্ধি এবং রেশন বণ্টন নিয়েও কেন্দ্রকে বিঁধেছেন তিনি। মমতার দাবি, বিহারে অনেকের রেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, বাংলায় বিজেপি এলে একই দশা হবে।
লক্ষ্য ২০২৬ ও দিল্লি
নিজের জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী মুখ্যমন্ত্রী এদিন দাবি করেন, ২০২৬-এ বাংলায় চতুর্থবার ক্ষমতায় আসার পর তাঁদের প্রধান লক্ষ্য হবে দিল্লি থেকে বিজেপিকে হঠানো। আসন পুনর্বিন্যাস করে তাঁকে বাধার দেওয়ার যে চেষ্টা করা হয়েছে, মানুষ ব্যালটেই তার যোগ্য জবাব দেবেন বলে কেশিয়াড়ির জনজোয়ারের সামনে হুঙ্কার দেন মমতা।