নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: বঙ্গ রাজনীতির অলিন্দে কি তবে সত্যিই এক পশলা বসন্তের বাতাস? বিধানসভার অন্দরে সংঘাত আর কাদা ছোড়াছুড়ির চেনা ছবি বদলে দিয়ে শুক্রবার এক নতুন সংসদীয় অধ্যায়ের সাক্ষী থাকল রাজ্য। সর্বসম্মতিক্রমে বিধানসভার নতুন অধ্যক্ষ (স্পিকার) নির্বাচিত হলেন রথীন্দ্রনাথ বসু। আর সেই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এদিন বিধানসভার ফ্লোরে যে সৌজন্যের আবহ তৈরি হলো, তা সাম্প্রতিককালের নিরিখে কার্যত নজিরবিহীন।
এদিন বিধানসভার অধিবেশন শুরু হতেই প্রোটেম স্পিকার নতুন অধ্যক্ষকে স্বাগত জানান। রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নিজে রথীন্দ্রনাথ বসুর নাম প্রস্তাব করেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে কোনো আপত্তি বা পাল্টা প্রার্থী না থাকায় কোনো লড়াই ছাড়াই নির্বাচিত হন তিনি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ‘সর্বসম্মতি’ আগামী দিনে বিধানসভার সুষ্ঠু পরিচালনার ক্ষেত্রে এক ইতিবাচক ইঙ্গিত।
অধ্যক্ষ নির্বাচনের পর বিধানসভায় দাঁড়িয়ে নিজের লক্ষ্য স্পষ্ট করে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার গরিমা ফেরানোর ডাক দিয়ে তিনি বলেন,”বিধানসভা মারামারি করার জায়গা নয়। আমরা চাই দায়বদ্ধতা এবং ভাষা ব্যবহারে শালীনতা। স্পিকারের চেয়ারের যে মর্যাদা ও সম্মান রয়েছে, আমরা তা অক্ষুণ্ণ রাখব।”এদিন মুখ্যমন্ত্রীর ভাষণে সবথেকে বড় চমক ছিল বিরোধীদের প্রতি তাঁর ‘উদার’ অবস্থান। অতীতে বারবার আলোচনার সময় না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছে তৎকালীন বিরোধী দলগুলো। সেই ধারা বদলে দিতে এদিন শুভেন্দু ঘোষণা করেন, বিধানসভার আলোচনায় শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষই যাতে সমান সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করা হবে। তাঁর কথায়, “সরকার এবং বিরোধী পক্ষ ৫০-৫০ ভাগ আলোচনায় অংশ নেবে। বিরোধী দল যাতে পর্যাপ্ত বলার সুযোগ পায়, সরকারি দল তা নিশ্চিত করবে।”

মুখ্যমন্ত্রীর বার্তায় যে ‘নতুন নিয়ম’-এর ইঙ্গিত,আলোচনায় সমতা শাসক ও বিরোধী পক্ষ সমান সময় পাবে। বিরোধী বিধায়করা দেখা করতে চাইলে বিজেপি বিধায়কদের সময় (অ্যাপয়েন্টমেন্ট) দেওয়ার কড়া নির্দেশ।বিরোধীদের প্রতি আবেদন, তারা যেন নিয়মবিধি মেনে সরকারের ভুল ধরিয়ে দেন।: অন্যান্য বিজেপি শাসিত রাজ্যের মতো পশ্চিমবঙ্গকেও গণতান্ত্রিক রীতিনীতিতে চালানোর অঙ্গীকার।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নতুন স্পিকারের কার্যকাল শুরুর দিনেই শুভেন্দু অধিকারীর এই কৌশলী অথচ সৌজন্যমূলক অবস্থান আসলে এক ঢিলে দুই পাখি মারা। একদিকে যেমন তিনি বিধানসভার অচলাবস্থা কাটানোর বার্তা দিলেন, অন্যদিকে সুশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বিরোধীদের আক্রমণের ধারও কিছুটা ভোঁতা করতে চাইলেন। এখন দেখার, বিধানসভার ফ্লোরে এই ‘সৌজন্যের রাজনীতি’ বাস্তবে কতটা স্থায়ী হয়।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *