বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ অমিত শাহের, ২০২৬-এ বিজেপির সরকার গঠনের দাবি
সঙ্কেত ডেস্ক:বিধানসভা নির্বাচনের আগে পশ্চিমবঙ্গ সফরে এসে তৃণমূল কংগ্রেস ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপির শীর্ষ নেতা অমিত শাহ। মঙ্গলবার এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের শাসনে পশ্চিমবঙ্গ “ভয় ও দুর্নীতির রাজ্যে” পরিণত হয়েছে এবং রাজ্য ক্রমশ অন্ধকারের দিকে এগোচ্ছে।
অমিত শাহ বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্যের সর্বত্র দুর্নীতি ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর দাবি, অনুপ্রবেশ ইস্যুতে রাজ্যের মানুষ আতঙ্কিত এবং সুশাসনের জন্য পরিবর্তন চাইছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বিপুল ভোটে জিতে পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠন করবে বলেও আশাবাদ প্রকাশ করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে অনুপ্রবেশ সম্পূর্ণ বন্ধ করা হবে এবং গরিব কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তাঁর অভিযোগ, আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের ক্ষেত্রেও তৃণমূল সরকার বাধা দিচ্ছে এবং বিএসএফকে প্রয়োজনীয় জমি দেয়নি। তাঁর মতে, ২০২৬ সালের নির্বাচন মূলত অনুপ্রবেশ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ভোট হবে।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে অমিত শাহ দাবি করেন, তৃণমূলের একাধিক নেতা ও মন্ত্রীর বাড়ি থেকে কোটি কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ও অনুব্রত মণ্ডল-সহ একাধিক নেতার নাম উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আপনারা কি এখনও বলবেন বাংলায় দুর্নীতি নেই?” তাঁর অভিযোগ, নিয়োগ দুর্নীতি থেকে শুরু করে পুরসভা—সব ক্ষেত্রেই দুর্নীতির ছায়া রয়েছে।
মহিলাদের নিরাপত্তা নিয়েও রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আরজি কর, দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজ-সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী নির্যাতনের ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, তৃণমূল সরকার বাংলার মানুষকে সুশাসন দিতে ব্যর্থ।
এছাড়াও রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতির অভিযোগ তুলে অমিত শাহ বলেন, তৃণমূলের শাসনকালে একের পর এক শিল্প সংস্থা রাজ্য ছেড়ে চলে যাচ্ছে এবং পশ্চিমবঙ্গের অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্প বাস্তবায়নেও রাজ্য সরকার বাধা দিচ্ছে বলে তাঁর অভিযোগ।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় আসবেই—এমনই দৃঢ় দাবি করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
