নিজস্ব সংবাদদাতা, মালদহ: লোকসভা নির্বাচনের পারদ চড়তেই মালদহের মাটি থেকে সুর চড়ালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার মানিকচকে দলীয় প্রার্থী কবিতা মণ্ডলের সমর্থনে আয়োজিত জনসভা থেকে একদিকে যেমন নির্বাচন কমিশনকে বিঁধলেন, তেমনই নাম না-করে আসাদউদ্দিন ওয়েইসি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে তুলোধোনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে গণতন্ত্রকে ‘পরিহাস’ করছে বিজেপি।
‘ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বড় ষড়যন্ত্র’
এদিন সভার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন তৃণমূল নেত্রী। ভোটার তালিকা (SSR) সংশোধন নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বলেন, “প্রাথমিকভাবে ৬০ লক্ষ জেনুইন ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। আমরা লড়াই করে, সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে ২২ লক্ষ নাম ফিরিয়েছি। বাকিদের অধিকার কাড়ার চেষ্টা চলছে।” বিশেষ করে সংখ্যালঘু, তফসিলি ও জনজাতিদের লক্ষ্য করে বিজেপি তাদের ‘ওয়াশিং মেশিন’ রাজনীতি চালাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। এদিন সভাস্থলে উপস্থিত যাদের নাম তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তাঁদের হাত তোলার নির্দেশ দিয়ে সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করার নির্দেশ দেন দলীয় কর্মীদের। মমতা বলেন, “আমার কেন্দ্রেও ৪০ হাজার নাম কাটা হয়েছে। সাহস থাকলে সামনে এসে লড়াই করুন।”
আসাদউদ্দিনকে ‘হায়দরাবাদের কোকিল’ কটাক্ষ
মোথাবাড়িতে সাম্প্রতিক অশান্তির প্রসঙ্গে নাম না-করে মিম (AIMIM) প্রধানকে তীব্র আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, “হায়দরাবাদ থেকে বিজেপির কোকিল এসেছে। সাথে কিছু সাম্প্রদায়িক লোকজন নিয়ে মালদহে অশান্তি ছড়াচ্ছে।” এই ঘটনার তদন্তে রাজ্যের সিআইডি-র সাফল্যের প্রশংসা করে তিনি জানান, মূল অভিযুক্তকে সিআইডি-ই ধরেছিল, যদিও বর্তমানে এনআইএ মামলার তদন্তভার নিয়েছে।
ইডি-সিবিআই অমিত শাহের ‘দুই ভাই’
কেন্দ্রীয় এজেন্সি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে মমতা বলেন, “দিল্লিতে বসে মালদহ-মুর্শিদাবাদে ভোট কাটার নির্দেশ দিচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর তাঁর দুই ভাই ইডি ও সিবিআইকে দিয়ে বাংলার অফিসারদের ভয় দেখানো হচ্ছে।” তাঁর দাবি, নির্বাচনে প্রভাব খাটাতে বাংলায় প্রায় ৪০০ জন অফিসারকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বদলে দেওয়া হয়েছে।
‘রাত জেগে গণনাকেন্দ্র পাহারা দিন’
নির্বাচনের দিন ও গণনার দিন নিয়ে দলীয় কর্মীদের একগুচ্ছ সতর্কবার্তা দিয়েছেন নেত্রী,তিনি বলেন ইভিএম খারাপ হলে ভোট বন্ধ রেখে নতুন মেশিন না আসা পর্যন্ত প্রতিবাদের নির্দেশ।পাশাপাশি গণনার সময় ‘পরিকল্পিত লোডশেডিং’ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। মা-বোনেদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, “আপনারা রাত জেগে গণনাকেন্দ্র পাহারা দিন।” সেই সঙ্গে তিনি হুশিয়ারি দেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা হাতিয়ে নিতে জালিয়াতি হতে পারে, তাই কাউকে ফোন বা অ্যাকাউন্টের তথ্য না দেওয়ার পরামর্শ দেন।
আইনি লড়াইয়ের পথ
ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটা যাওয়া মানুষদের প্রতি মমতার আশ্বাস, “বিচারকদের ঘেরাও করবেন না। ট্রাইব্যুনালে আবেদন করুন। প্রবীণ আইনজীবী বাচ্চুদার মতো অভিজ্ঞরা আপনাদের হয়ে লড়াই করবেন।” দিল্লির বর্তমান সরকারকে “হামটি ডামটি শয়তানের দল” বলে কটাক্ষ করে কেন্দ্রের পরিবর্তনের ডাক দিয়ে এদিনের সভা শেষ করেন তৃণমূল সুপ্রিমো।