নিজস্ব সংবাদদাতা, রানীগঞ্জ: তপ্ত পিচ আর চড়া রোদের তেজকেও হার মানাল জনরোষের আগুন। শান্ত তিরাট নিমেষেই বদলে গেল রণক্ষেত্রে। ডাম্পারের চাকায় পিষ্ট এক আদিবাসী যুবকের রক্তে রঞ্জিত হল রাস্তা, আর সেই রক্তের দাগ মুছতে না মুছতেই জ্বলে উঠল একের পর এক বালিবোঝাই দানব। প্রশাসনের ‘নীরবতা’ আর ‘অবৈধ’ কারবারের দাপটে সোমবার কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল আসানসোলের রানিগঞ্জ থানার তিরাট এলাকা।
ঘটনার সূত্রপাত: রক্তে ভিজল শিবানন্দ আশ্রমের মোড়
এদিন দুপুরে তিরাট পঞ্চায়েতের শিবানন্দ আশ্রমের কাছে দুর্ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ডামরা আড়া ডাঙ্গাল এলাকার বাসিন্দা বছর তেইশের যুবক অবিনাশ মুর্মু ইটভাটার কাজ সেরে সাইকেলে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সেই সময় তিরাট ঘাটের দিকে তীব্র গতিতে ধেয়ে আসছিল একটি বালি বোঝাই ডাম্পার। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘাতক ডাম্পারটি সরাসরি ধাক্কা মারে ওই যুবককে। রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন অবিনাশ। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে তাঁকে জেলা হাসপাতালে পাঠালেও ক্ষোভের আগুন ছড়াতে সময় নেয়নি।
জনরোষ ও আগুনের তাণ্ডব
দুর্ঘটনার খবর চাউর হতেই লাঠিসোটা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন শয়ে শয়ে গ্রামবাসী। তাঁদের অভিযোগ, ইসিএল-এর নাম ভাঙিয়ে দিনরাত এলাকায় চলে অবৈধ বালির কারবার। আর এই কারবারের ডাম্পারগুলি যে যমদূতের মতো যাতায়াত করে, তার মাশুল দিতে হল এক তরতাজা প্রাণকে।প্রতিবাদে স্থানীয়রা দীর্ঘক্ষণ রাস্তা অবরোধ করে চলে বিক্ষোভ। বিক্ষুব্ধ জনতা বালিঘাটে গিয়ে অন্তত পাঁচটি ডাম্পারে আগুন ধরিয়ে দেয়। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় আকাশ। আরও বেশ কিছু ডাম্পার ও যান ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খায় নিমচা ফাঁড়ির পুলিশ।
ময়দানে অগ্নিমিত্রা: প্রশাসনকে কড়া হুঁশিয়ারিপ্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার পুলিশ-প্রশাসনকে জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি। বালি মাফিয়াদের দাপটে তিরাট ঘাট এখন আতঙ্কের আর এক নাম। গ্রামবাসীর বক্তব্য, “পুলিশ শুধু দর্শক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে, আর আমাদের বাড়ির ছেলেরা রাস্তায় প্রাণ হারায়। আজ যে আগুন জ্বলেছে, তা প্রশাসনের ব্যর্থতারই প্রতিফলন।”বর্তমানে এলাকায় মোতায়েন রয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। পরিস্থিতি থমথমে থাকলেও ক্ষোভের ধিকিধিকি আগুন এখনও তিরাটবাসীর চোখেমুখে স্পষ্ট। অবিনাশের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে ওয়াকিবহাল মহল।