নিজস্ব সংবাদদাতা, পটনা: চৈত্র শেষের তপ্ত দুপুরে বিহারের রাজনীতিতে ঘটল বড়সড় পটবদল। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বিহারের রাজনীতির ধ্রুবতারা হয়ে থাকা নীতীশ কুমারের শাসনের অবসান ঘটল। মঙ্গলবার রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইনের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিলেন নীতীশ। আর তাঁর ছেড়ে যাওয়া কুর্সিতে বসতে চলেছেন তাঁরই একদা ডেপুটি তথা বিজেপি নেতা সম্রাট চৌধুরী। বুধবারই বিহারের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেবেন তিনি। হিন্দি বলয়ের আর পাঁচটা রাজ্যের মতো বিহারেও এ বার ‘পদ্ম-শাসন’ শুরু হতে চলেছে।
কেন এই পরিবর্তন?
রাজনীতির অলিন্দে এই রদবদলের আবহ তৈরি হয়েছিল দিন কয়েক আগেই। গত ১০ এপ্রিল নীতীশ কুমার রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল যে, জাতীয় রাজনীতিতে বড় ভূমিকা নিতে চলা নীতীশ এ বার পটনার তখত ছাড়বেন। মঙ্গলবার মন্ত্রিসভার শেষ বৈঠক সেরে রাজ্যপালের কাছে ইস্তফা দেওয়ার পর এক্স হ্যান্ডেলে নীতীশ লেখেন, “নতুন সরকার দায়িত্বগুলি এগিয়ে নিয়ে যাবে এবং বিহারের উন্নতির জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।”
নেতা নির্বাচন
এ দিন নীতীশের ইস্তফার পরই বিজেপির অন্দরে তৎপরতা শুরু হয়। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের উপস্থিতিতে বিজেপির পরিষদীয় দলের বৈঠক বসে। সেখানে সর্বসম্মতিক্রমে সম্রাট চৌধুরীকে নেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। শিবরাজ জানান, “সম্রাট চৌধুরীকে সকলে মিলে নেতা নির্বাচিত করেছেন।” বিহার বিধানসভায় ৮৯ জন বিধায়ক নিয়ে বিজেপি এখন একক বৃহত্তম শক্তি। শরিক জেডি(ইউ)-এর ৮৫ জন বিধায়ক এবং চিরাগ পাসোয়ান ও জিতনরাম মাঝিঁদের সমর্থনে এনডিএ জোটের পাল্লাই এখন ভারী।
কে এই সম্রাট?
৫৭ বছর বয়সি সম্রাট চৌধুরী বিহারের রাজনীতিতে ‘নতুন প্রজন্মের’ মুখ। ওবিসি বা অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ‘কুশওয়াহা’ সম্প্রদায়ের এই নেতা বিজেপির সামাজিক সমীকরণের ক্ষেত্রে তুরুপের তাস। ১৯৯০ সালে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। লালুপ্রসাদের আরজেডি থেকে নীতীশের জেডিইউ হয়ে ২০১৭ সালে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। বিহারে যাদবদের পর দ্বিতীয় বৃহত্তম ভোটব্যাঙ্ক হল কুশওয়াহারা। নীতীশ কুমারের ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে এবং অনগ্রসরদের মন পেতে সম্রাটের উপরই ভরসা রেখেছে দিল্লি। সুশীল মোদীর প্রয়াণের পর থেকেই তিনি বিজেপির বিহার ইউনিটের অন্যতম স্তম্ভ হয়ে উঠেছিলেন।
চৈত্রে শেষ, বৈশাখে নতুন:
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পরিবর্তন শুধু নেতৃত্বের বদল নয়, বিহারের জোট সমীকরণে বিজেপির ‘বড় দাদা’ হয়ে ওঠার চূড়ান্ত প্রমাণ। এতকাল নীতীশকে সামনে রেখে লড়াই করলেও, এ বার থেকে বিহারের রিমোট কন্ট্রোল সরাসরি পদ্ম-শিবিরের হাতেই থাকল। মঙ্গলবার পটনার দলীয় কার্যালয়ে যখন আবির খেলা চলছিল, তখনই স্পষ্ট হয়ে যায়— মগধের রাজনীতিতে এ বার এক নতুন ‘সম্রাট’-এর উদয় হল।