নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই শিল্পাঞ্চলে প্রচারের পারদ চড়তে শুরু করেছে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল এবং প্রধান বিরোধী শক্তি বিজেপি যখন প্রার্থী তালিকা ও রণকৌশল নিয়ে শেষ মুহূর্তের অঙ্ক কষতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই তাদের টেক্কা দিয়ে নির্বাচনী ময়দানে এক কদম এগিয়ে গেল বামেরা। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর মহকুমা শাসকের দফতরে একযোগে মনোনয়ন পত্র দাখিল করলেন সিপিএমের চার প্রার্থী।
এদিন মনোনয়ন জমা দেওয়া চার প্রার্থী হলেন:
* দুর্গাপুর পূর্ব: সীমান্ত চট্টোপাধ্যায়
* দুর্গাপুর পশ্চিম: প্রভাস সাঁই
* রানীগঞ্জ: নারান বাউরি
* পাণ্ডবেশ্বর: প্রবীর মন্ডল
শক্তির প্রদর্শন লাল ঝাণ্ডার মিছিলে
এদিন সকালে সিটি সেন্টারের সৃজনী প্রেক্ষাগৃহের সামনে থেকে একটি বিশাল মিছিল বের করে বামেরা। কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিতে মিছিলটি শিল্পাঞ্চলের প্রধান রাস্তাগুলি পরিক্রমা করে। মিছিলে দলীয় পতাকার পাশাপাশি ছিল স্লোগানের গর্জন। শাসক ও বিরোধী—উভয় পক্ষকেই তুলাধোনা করে প্রার্থীরা দাবি করেন, শিল্পাঞ্চলের মানুষের রুটি-রুজির লড়াইয়ে একমাত্র বামপন্থীরাই বিকল্প।
মনোনয়ন জমা ও রাজনৈতিক তাৎপর্য
মিছিলটি মহকুমা শাসকের দফতরে পৌঁছালে চার প্রার্থী ভেতরে গিয়ে নিজ নিজ মনোনয়ন পত্র জমা দেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল ও বিজেপির আগে মনোনয়ন জমা দিয়ে বামেরা আসলে নিজেদের’অর্গানাইজেশনাল ডিসিপ্লিন’ বা সাংগঠনিক তৎপরতারই প্রমাণ দিল।সিপিএম প্রার্থী সীমান্ত চ্যাটার্জী বলেন “আমরা মানুষের কাছে যাচ্ছি শিল্পের পুনরুজ্জীবন আর কর্মসংস্থানের দাবি নিয়ে। অন্য দলগুলি যখন গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আর প্রার্থী বাছাই নিয়ে জেরবার, আমরা তখন জনগণের রায় নিতে প্রস্তুত।”
মনোনয়ন জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে এদিন মহকুমা শাসকের দফতর চত্বরে নিরাপত্তা ছিল চোখে পড়ার মতো। কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটলেও, বামেদের এই আগাম পদক্ষেপ শিল্পাঞ্চলের নির্বাচনী লড়াইয়ে নতুন মাত্রা যোগ করল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন দেখার, এই আগাম তৎপরতা ভোটের বাক্সে কতটা প্রতিফলিত হয়।