নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর:জীর্ণ পুরাতন যাক ভেসে যাক— বৈশাখের প্রথম ভোরে এই মন্ত্রেই যেন দীক্ষিত হলো শিল্পশহর। পুরনো বছরের হিসেব নিকেশ চুকিয়ে নতুন শুরুর আশায় মঙ্গলবার ভোরে দুর্গাপুরের ভিরিঙ্গি কালী মন্দিরে ভিড় জমালেন বেনাচিতির ব্যবসায়ীরা। লাল কাপড়ে মোড়া নতুন খাতা বা ‘হালখাতা’র পুজোকে কেন্দ্র করে মন্দির চত্বরে এদিন দেখা গেল চেনা ঐতিহ্যের সেই আবহ।
ভক্তি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন
শিল্পাঞ্চলের প্রাচীন এই মন্দিরকে ঘিরে স্থানীয়দের ভাবাবেগ দীর্ঘদিনের। মঙ্গলবার পঞ্জিকার হিসেবে নববর্ষের সূচনায় সেই আবেগ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যায়। ভোর থেকেই মন্দির চত্বরে লম্বা লাইন দিতে শুরু করেন ব্যবসায়ীরা। প্রত্যেকের হাতে ধূপ-ধুনো, মিষ্টির প্যাকেট এবং সযত্নে ধরা নতুন খাতা।
ব্যবসায়ীদের মতে, ডিজিটাল জমানায় কম্পিউটারে হিসেব রাখা হলেও, মায়ের চরণে লাল খাতা ছোঁয়ানোর মধ্যে এক আত্মিক শান্তি ও বিশ্বাস জড়িয়ে থাকে। এক ব্যবসায়ী জানালেন, “ব্যবসার লাভ-ক্ষতি তো থাকবেই, কিন্তু বছরের শুরুটা মায়ের আশীর্বাদ নিয়ে করাটাই আমাদের প্রধান দস্তুর। সেই কারণেই প্রতি বছর এখানে আসা।”
বেনাচিতি ও পুজোর মেজাজ
দুর্গাপুরের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র বেনাচিতি। সেখানকার ক্ষুদ্র ও বৃহৎ— সব স্তরের ব্যবসায়ীদের কাছেই বৈশাখী হালখাতা এক বড় উৎসব। এদিন মন্দিরে পুজোর পাশাপাশি চলে কুশল বিনিময়। পুজোর শেষে উপস্থিত ভক্ত ও সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রসাদ বিতরণের আয়োজন করা হয়। শুধু ব্যবসায়ীরাই নন, নতুন বছরের শুরুতে মা কালীর আশীর্বাদ নিতে সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।
নববর্ষের এই মিলনমেলা প্রমাণ করে দিল, আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক কিছু পাল্টালেও বাঙালির হালখাতার সংস্কৃতি আজও তার শিকড় ধরে রেখেছে একই সতেজতায়। দক্ষিণবঙ্গের এই শিল্পশহর তাই কর্মব্যস্ততার মাঝেও এদিন মেতে রইল ভক্তি আর শুভেচ্ছার আদানপ্রদানে।