সঙ্কেত ডেস্ক: মোবাইলের ও-পারে কে? বহু প্রতীক্ষার পর এ বার সরাসরি মিলবে সেই উত্তর। অচেনা নম্বর থেকে ফোন এলে কার নাম দেখতে পাওয়া যাবে, তা নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই চলছিল জল্পনা। সেই জল্পনায় সিলমোহর দিয়ে ভারতীয় টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের নির্দেশ দিল কেন্দ্রীয় টেলিকম বিভাগ (ডিওটি)। আগামী ১ নভেম্বর থেকেই দেশের সমস্ত মোবাইল নেটওয়ার্কে চালু হতে চলেছে ‘কলিং নেম প্রেজেন্টেশন’ (সিএনএপি) পরিষেবা। এর ফলে কোনও নম্বর গ্রাহকের মোবাইলে সেভ না-থাকলেও, কল আসার সঙ্গে সঙ্গেই নম্বরের পাশাপাশি স্ক্রিনে ভেসে উঠবে সেই ব্যক্তির সরকারি পরিচয়।
১৩ অক্টোবরের এক কড়া নির্দেশিকায় দেশের সমস্ত টেলিকম সংস্থাকে অবিলম্বে প্রতিটি সার্কেলে এই পরিকাঠামো গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই সুবিধা পাওয়ার জন্য গ্রাহকদের বাড়তি কোনও আবেদন বা কাঠখড় পোড়াতে হবে না।
কার নাম দেখাবে ফোনে?
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন এই ব্যবস্থায় স্ক্রিনে একই সঙ্গে ফোন নম্বর এবং নাম প্রদর্শিত হবে। তবে সে ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের নির্দিষ্ট কিছু মাপকাঠি বেঁধে দিয়েছে দফতর
-
সংরক্ষিত নম্বর: কোনও নম্বর যদি গ্রাহকের নিজস্ব ফোনে আগেই সেভ করা থাকে, তবে ব্যবহারকারীর দেওয়া নামটিই অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে স্ক্রিনে ফুটে উঠবে।
-
অপরিচিত দেশীয় নম্বর: ফোনে নম্বর সেভ না-থাকলে, সংশ্লিষ্ট কলারের সিম কার্ড তোলার সময় জমা দেওয়া সরকারি পরিচয়পত্র (কেওয়াইসি নথিতে থাকা নাম) সরাসরি অন্য জনের ফোনে দৃশ্যমান হবে। ফলে ট্রু-কলারের মতো বেসরকারি থার্ড-পার্টি অ্যাপের উপর আর নির্ভর করতে হবে না।
-
আন্তর্জাতিক কল: বিদেশ থেকে আসা কলের ক্ষেত্রে অবশ্য কোনও ব্যক্তিগত নাম ভেসে উঠবে না। স্ক্রিনে শুধুই জ্বলজ্বল করবে “ইন্টারন্যাশনাল কল” কথাটি।
-
গোপনীয়তার অধিকার: যাঁরা আগে থেকেই নিয়ম মেনে ‘কলিং লাইন আইডেন্টিফিকেশন রিস্ট্রিকশন’ (সিএলআইআর) পরিষেবা চালু রেখেছেন, তাঁদের পরিচয় যথারীতি গোপনই রাখা হবে।
শুরুতেই কি সর্বত্র?
প্রাথমিক ভাবে ৪জি এবং ৫জি প্রযুক্তির ওয়্যারলেস নেটওয়ার্কগুলিতেই এই পরিষেবা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। কেন্দ্র জানিয়েছে, আধুনিক নেটওয়ার্কগুলিতে আগেই এর সফল ট্রায়াল সম্পন্ন হয়েছে। তবে পুরনো ২জি, ৩জি পরিকাঠামো এবং ল্যান্ডলাইনের ক্ষেত্রে বিষয়টি পরবর্তী পর্যায়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
গ্রাহকদের তথ্যের সুরক্ষার দিকটিও এ ক্ষেত্রে বিশেষ নজরে রাখা হয়েছে। নির্দেশিকায় ‘সিকিউরিটি-বাই-ডিজাইন’ পদ্ধতি ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ, কল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার সঙ্গেই অনুসন্ধান সংক্রান্ত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যাবে। সার্ভারে কোনও নাম বা ব্যক্তিগত তথ্য স্থায়ীভাবে জমা থাকবে না।
অন্য দিকে, বাণিজ্যিক বা বাল্ক কানেকশন ব্যবহারকারীদের কিছুটা স্বস্তি দেওয়া হয়েছে। কোনও সংস্থা চাইলে তাদের নথিভুক্ত ট্রেডমার্ক বা জিএসটি পোর্টালে থাকা ‘ট্রেড নেম’ প্রদর্শন করতে পারবে। তবে টেলিকম সংস্থাকে মূল নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করেই তবে সেই অনুমতি দিতে হবে। পরিষেবায় কোনও ত্রুটি বা নাম বিভ্রাট ঘটলে তা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাধানের জন্য বিশেষ সেল তৈরিরও নির্দেশ পেয়েছে সংস্থাগুলি।
টেলিকম নিয়ামক সংস্থা ট্রাই-এর দীর্ঘ আলোচনার সুপারিশ এবং পরবর্তী কেওয়াইসি নির্দেশিকার পথ ধরেই এই চূড়ান্ত পদক্ষেপ কেন্দ্রের। সাইবার জালিয়াতি ও স্প্যাম কলের দৌরাত্ম্য রুখতে এই সিদ্ধান্ত এক বড় মাইলফলক হতে চলেছে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।