নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: দুর্গাপুজোর আবহে নারীশক্তির আরাধনায় অন্য মাত্রা যোগ করতে ফের হাজির দুর্গাপুরের প্রজাপিতা ব্রহ্মকুমারী ঈশ্বরীয় বিশ্ববিদ্যালয়। এ বার দ্বাদশ বর্ষে পা দিল তাদের ‘জীবন্ত দুর্গা’ উপস্থাপনা। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত ছ’দিন ধরে চলবে এই বিশেষ প্রদর্শনী। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে প্রদর্শনী।
সংস্থার এই উদ্যোগে অংশ নেবেন প্রায় ২০ জন শিল্পী। তবে এ বারের আয়োজন শুধুমাত্র দুর্গারূপের উপস্থাপনাতেই সীমাবদ্ধ নয়। সমাজের নানা জ্বলন্ত সমস্যাকে সামনে রেখে দর্শকদের কাছে বিশেষ বার্তা পৌঁছে দেওয়ারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুর্গাপুজোর আবহে জীবন্ত দুর্গার মাধ্যমে সমাজকে বিশেষ বার্তা দিতে চায় আয়োজক সংস্থা। বর্তমান সময়ে মাদকাসক্তি ও বিভিন্ন নেশার কুফল সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করাই এ বারের উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে জীবন্ত দুর্গার এই উপস্থাপনার মাধ্যমে সুস্থ, সুন্দর ও নেশামুক্ত সমাজ গড়ার বার্তা তুলে ধরা হবে।
করোনা অতিমারি এবং আরজি করের ঘটনার পর সাময়িক ভাবে বন্ধ ছিল এই আয়োজন। তবে বিরতি কাটিয়ে ফের নতুন উদ্যমে অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে প্রজাপিতা ব্রহ্মাকুমারী ঈশ্বরীয় বিশ্ববিদ্যালয়। সংস্থার উদ্যোগে ছাত্রছাত্রীরা জীবন্ত দুর্গার রূপে সমাজের সামনে তুলে ধরবেন নেশামুক্ত পৃথিবীর ভাবনা।
সংস্থার রাজযোগিনী সমতা জানান, জীবন্ত দুর্গার এই উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে শুধু পুজোর আবহ তৈরি করাই তাঁদের উদ্দেশ্য নয়, বরং সমাজকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার বার্তা দেওয়াও তাঁদের লক্ষ্য। নেশামুক্ত সমাজ গড়ে তোলা এবং নারীর প্রতি সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো বিষয়গুলিকে মানুষের সামনে তুলে ধরতে চায় সংস্থা।
দুর্গাপুজোর উৎসবের আবহে তাই এ বার দুর্গাপুরের এই আয়োজনের মূল সুর— আরাধনার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার বার্তা।আয়োজকদের আশা, দুর্গাপুজোর এই বিশেষ উপস্থাপনা দর্শকদের কাছে শুধু ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক আকর্ষণ হিসাবেই নয়, সামাজিক সচেতনতার বার্তা হিসাবেও গুরুত্ব পাবে। উৎসবের আনন্দের সঙ্গে নেশামুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার ছড়িয়ে দেওয়াই এ বারের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।