নিজস্ব প্রতিবেদন, দুর্গাপুর:* রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর এবার বড়সড় প্রশাসনিক রদবদল ঘটানো হল শিল্পাঞ্চলে। একযোগে ভেঙে দেওয়া হল আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ (এডিডিএ) এবং দুর্গাপুর নগর নিগমের (ডিপিসি) তৃণমূল আমলের প্রশাসক মণ্ডলীর বোর্ড। রাজ্য সরকারের নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দফতরের চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব সামলাবেন পশ্চিম বর্ধমানের জেলাশাসক পন্নামবলাম এস।

সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর মঙ্গলবার দুপুরে এডিডিএ এবং দুর্গাপুর পুরনিগমে গিয়ে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেন দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণ চন্দ্র ঘরুই। জানা গিয়েছে, জেলাশাসককে চেয়ারম্যান পদে রেখে এই দুই দফতরের কাজে বিশেষ সহযোগিতা করবেন স্থানীয় এই দুই বিধায়ক।

দীর্ঘ চার বছর কাউন্সিলরহীন দুর্গাপুর

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে দুর্গাপুর নগর নিগমের শেষ নির্বাচন হয়েছিল। ২০২২ সালে বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ চার বছর ধরে কাউন্সিলর ছাড়াই চলছিল শহরের সব ক’টি ওয়ার্ড। তৃণমূল জমানায় প্রশাসক মণ্ডলীর বোর্ড গঠন করে পুরনিগমের কাজ চালানো হচ্ছিল। কিন্তু তার পরেও শহরের কোথাও পানীয় জলের তীব্র সমস্যা, আবার কোথাও রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ জমছিল সাধারণ মানুষের মনে। সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনের আগেও এই নাগরিক পরিষেবা নিয়ে সরব হয়েছিল বিভিন্ন মহল। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর এবার সেই বিতর্কিত প্রশাসক বোর্ড পুরোপুরি সরিয়ে দেওয়া হল।

অন্য দিকে, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগেই আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কবি দত্ত। তারপর থেকে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে জেলাশাসকই ওই দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন। নতুন সরকার গঠনের পরেও সেই ধারা বজায় রেখে জেলাশাসকের ওপরেই চূড়ান্ত আস্থা রাখল নবান্ন।

জমি কেলেঙ্কারি ও নিয়োগ দুর্নীতির ফাইল খোলার নির্দেশ

দায়িত্ব হস্তান্তরের পরই পূর্বতন বোর্ডের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেন, “এতদিন একদল দুর্নীতিগ্রস্ত লোকজন এই সরকারি দফতরগুলি চালাচ্ছিল। ফলে সাধারণ মানুষের উন্নয়নের বদলে শুধু দুর্নীতি হয়েছে। কাঁকসার তপোবন সিটি এলাকায় আবাসন তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম, আসানসোল দুর্গাপুর উন্নয়ন পর্ষদ এলাকায় জমি কেলেঙ্কারি এবং বিভিন্ন সরকারি ভবনে বেআইনি নিয়োগ নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে।”

বিধায়ক আরও জানান, পূর্বতন জমানার সেই সমস্ত বিতর্কিত ফাইল খোলার নির্দেশ ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই সব দুর্নীতির তদন্তে বিশেষ কমিটি গঠন করে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে শিল্পাঞ্চলের স্তব্ধ হয়ে থাকা উন্নয়ন যেমন গতি পাবে, তেমনই দুর্নীতি দমনেও বড়সড় বার্তা দেওয়া গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *