নিজস্ব প্রতিবেদন, কলকাতা: রাজ্যের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির ফি এবং মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে এবার অত্যন্ত কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্কুল ও কলেজগুলির মাত্রাতিরিক্ত ফি নিয়ন্ত্রণে এবার সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেওয়ার পাশাপাশি, পড়ুয়াদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আরও স্বচ্ছ ও যত্নবান হওয়ার আবেদন জানিয়েছেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান। সাধারণ ঘরের ছেলেমেয়েদের স্বার্থের কথা মাথায় রেখে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে অবিলম্বে এই বিষয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করার আহ্বান জানান তিনি।

এদিন এক অনুষ্ঠানে বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে স্পষ্ট ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকে আমি আবেদন করব যে, অর্থনৈতিকভাবে আপনারা যেভাবে ফি, সেমিস্টার ফি বা অন্যান্য উপায়ে অর্থ নিচ্ছেন, এক্ষেত্রে সরকারের নিয়ন্ত্রণ রাখা উচিত। আপনারাও এখন থেকে এই বিষয়ে ভাবতে শুরু করুন। এমন কোনো কাজ করবেন না যাতে সরকার বিব্রত হয়, অথবা কোনো সাধারণ বাড়ির ছেলেমেয়েরা চরম অসুবিধার মধ্যে পড়ে।

ফি কাঠামোর পাশাপাশি বেসরকারি স্কুল ও কলেজের পাসের হার এবং ঢালাও নম্বর দেওয়ার প্রবণতা নিয়েও এদিন তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, মূল্যায়নের সঠিক মাপকাঠি না থাকার কারণে সরকারি স্কুলের মেধাবী ছাত্র ছাত্রীরা এক প্রকার অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান আরও যোগ করেন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভর্তি হওয়া যেমন খুব সহজ, তেমনই মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং কৃতকার্য বা পাস হওয়া আরও বেশি সহজ। দয়া করে মূল্যায়নের ক্ষেত্রে আপনারা একটু সঠিক ও যত্নবান হন। শিক্ষার্থীর মেধা অনুযায়ী তার সঠিক মূল্যায়ন হওয়া দরকার।

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, বেসরকারি স্তরে মূল্যায়নের উপযুক্ত মানদণ্ড বজায় না থাকায় উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাজারে এক প্রকার বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। তিনি বলেন, সঠিক মূল্যায়ন না হলে, যখন আমাদের সরকারি স্কুলের ছাত্র ছাত্রীরা কোনো প্রতিযোগিতায় যাচ্ছে, তারা তখন বেসরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে এই অসম প্রতিযোগিতায় ছিটকে যাচ্ছে। কিছুতেই এটে উঠতে পারছে না।

রাজনৈতিক ও শিক্ষা মহলের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্যের পর রাজ্যের বেসরকারি স্কুল ও কলেজগুলির ফি কাঠামো নিয়ন্ত্রণে সরকার কোনো নতুন নীতি বা কড়া আইন আনতে পারে কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। একই সাথে, ঢালাও নম্বর দেওয়ার সংস্কৃতিতে রাশ টেনে মেধার ভিত্তিতে প্রকৃত মূল্যায়নের যে বার্তা মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন, তা আগামী দিনে শিক্ষা ব্যবস্থায় এক বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

By admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *