নিজস্ব সংবাদদাতা, ভোটমুখী বাংলায় চড়ছে পারদ। মঙ্গলবার বোলপুরের হাইভোল্টেজ জনসভা থেকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দুর্নীতি দমন থেকে নারী সুরক্ষা— একাধিক ইস্যুতে সুর চড়িয়ে শাহ স্পষ্ট দাবি করলেন, ৪ মে-র পর বাংলায় ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার আসা কেবল সময়ের অপেক্ষা।
এদিন সভার শুরুতেই এক অন্য মেজাজে ধরা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। নিরাপত্তার কড়াকড়ি শিথিল করার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, “কাউকে আটকাবেন না, সবাইকে নির্ভয়ে আসতে দিন।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মানুষের কাছাকাছি পৌঁছনোর বার্তা দিতেই শাহের এই কৌশল।
বীরভূমের অশান্ত রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি সরাসরি সংঘাতের পথে হাঁটেন। শাহের হুঁশিয়ারি, “রাজ্যে বোমার রাজনীতির দিন শেষ। ২৩ এপ্রিল তৃণমূলের গুন্ডারা ঘরে বসে থাকুন, নয়তো ৫ মে-র পর খুঁজে খুঁজে জেলে ভরা হবে।” সিন্ডিকেট ও কাটমানি ইস্যুতে আক্রমণাত্মক মেজাজে তিনি আরও যোগ করেন, “দুর্নীতিবাজদের উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করার দায়িত্ব আমাদের।”
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও নারী সুরক্ষা নিয়ে সরব হয়ে শাহ টেনে আনেন আরজি কর ও দুর্গাপুরের সাম্প্রতিক প্রসঙ্গ। তাঁর প্রশ্ন, “মহিলা মুখ্যমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও কেন বাংলার মেয়েরা নিরাপদ নন?” বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাত ১টাতেও মেয়েরা নির্ভয়ে রাস্তায় ঘুরতে পারবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। পাশাপাশি রাজ্যে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) কার্যকর করার প্রতিশ্রুতিও শোনা যায় তাঁর গলায়।
রবীন্দ্রনাথের উত্তরাধিকার ও বাংলার সংস্কৃতি নিয়েও তৃণমূলকে বিঁধতে ছাড়েননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তাঁর দাবি, শান্তিনিকেতনের ইউনেস্কো স্বীকৃতি বা বাংলা ভাষাকে শাস্ত্রীয় মর্যাদান— সবকিছুই হয়েছে নরেন্দ্র মোদীর সদিচ্ছায়। এদিনের সভা থেকে শাহের চূড়ান্ত বার্তা, আসন্ন নির্বাচনে ব্যালটেই মানুষ সমস্ত ‘অনাচারের’ জবাব দেবে।