নিজস্ব সংবাদদাতা, বাঁকুড়া: বিধানসভা নির্বাচনের পারদ চড়ল বাঁকুড়ায়। ওন্দার নির্বাচনী জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শনিবারের এই সভা থেকে তিনি স্পষ্ট জানান, আসন্ন ২৩ ও ২৯ এপ্রিলের নির্বাচনে তৃণমূলের ‘গুন্ডাবাহিনী’ যেন ঘরের বাইরে পা না রাখে। রাজ্যের বর্তমান আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি থেকে শুরু করে আর জি কর কাণ্ড এবং পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতি— একাধিক ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে এদিন কার্যত তুলোধনা করেন শাহ।
এদিন ভাষণের শুরুতেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, তৃণমূলের গুন্ডারা যেন ২৩ ও ২৯ তারিখ বাড়িতেই থাকে। মমতাদির কোনো গুন্ডা যেন ভোটে নাক গলাতে না পারে, তা আটকাতে সব ধরনের ব্যবস্থা করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘হীরক রানী’ সম্বোধন করে তিনি কটাক্ষ করেন, এই হীরক রানীকে টাটা বাই-বাই করার সময় চলে এসেছে। মোদী সরকার ৫ কেজি চাল দিলে তার থেকে ১ কেজি চুরি করে নেয় তৃণমূলের সরকার।
রাজ্যে মহিলা মুখ্যমন্ত্রী থাকা সত্ত্বেও নারী নিরাপত্তা কেন তলানিতে, সেই প্রশ্নও তোলেন শাহ। আর জি কর হাসপাতালের নৃশংস ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আর জি করের ঘটনায় গোটা বিশ্বে পশ্চিমবঙ্গ লজ্জিত হয়েছে। তৃণমূল সরকার মহিলাদের মর্যাদা রক্ষা করতে পারেনি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে এ রাজ্যে ২৪ ঘণ্টা নারী নিরাপত্তার গ্যারান্টি দেওয়া হবে।
তৃণমূল সরকারের আমলে শিক্ষা, গরু, কয়লা পাচার এবং আবাস যোজনায় হওয়া চুরির অভিযোগ তুলে শাহের তোপ, পশ্চিমবঙ্গে সব বিষয়ে দুর্নীতি হয়েছে। কোটি কোটি টাকা লুট করেছে তৃণমূলের নেতারা। এর পরেই দুর্নীতিবাজদের সাবধান করে দিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, বিজেপি সরকার বাংলায় এলে একটি আলাদা কমিটি গঠন করা হবে এবং এই দুর্নীতিবাজ নেতাদের জেলে ঢোকানো হবে। চৌঠা মে-র পর সব দুর্নীতির হিসেব হবে।
শাহের আরও অভিযোগ, অনুপ্রবেশকারীরাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রধান ভোটব্যাঙ্ক। রোহিঙ্গা ও অনুপ্রবেশকারীদের বাঁচাতে চাইছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি রাজ্যের ‘সিন্ডিকেট রাজ’ নিয়ে সরব হয়ে তিনি বলেন, এখানে বালি, সিমেন্ট কিনতেও সিন্ডিকেট দিতে হয়। এই সিন্ডিকেট আমরা চিরতরে শেষ করব। ভোটের দিন প্রতিটি বুথে পদ্মফুলে ছাপ দিয়ে তৃণমূলের সরকারকে উপড়ে ফেলার আহ্বান জানিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।